সিরাজগঞ্জে শিশু ইমন হত্যায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

নিখোঁজের আটদিন পর বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত প্রস্রাবখানা থেকে শিশু ইমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 11:32 AM
Updated : 22 Nov 2022, 11:32 AM

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ইমন নামে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ১৩ বছর পর মামলার রায়ে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. এরফান উল্লাহ এ রায় দেন বলে ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) মশিউর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বেলকুচি উপজেলার চর মকিমপুর গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে ওসমান (২৫), কোরবান আলীর ছেলে সোহেল (২৫), আব্দুস সোবহানের ছেলে কাওছার (২৪) ও তামাই গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আল-আমিন (৩৫) ও হিরন (৩০)।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আলহাজ ও গোলাম নামে দুইজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথির বরাতে এপিপি মশিউর জানান, শিশু ইমনের বাবা চাঁন মিয়া মালয়েশিয়া থাকতেন। তার স্ত্রী মমতা খাতুন দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চর মকিমপুর গ্রামে বসবাস করতেন।

সে সময় মমতা তার চাচা আলহাজ আলীর কাছ থেকে জমি কেনার জন্য ৩০ হাজার টাকা বায়না দেন। পরবর্তীতে জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে আলহাজ টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বিবাদও হয়।

এ অবস্থায় ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল মমতার ছয় বছর বয়সী ছেলে ইমন নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় বেলকুচি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। আট দিন পর ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত প্রস্রাবখানা থেকে শিশু ইমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ইমনের চাচা সানোয়ার হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০১৩ সালের ৩ মার্চ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিচার কাজে ১২ জন সাক্ষি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন ওসমান ও আল-আমিন।

সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবনের রায় দেন আদালত।

একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো এক বছর কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

এছাড়া আরেক ধারায় প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে সন্তুষ্টির কথা জানালেও বাদি চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন এপিপি মশিউর রহমান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক