Published : 06 Nov 2025, 02:55 PM
প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্য সালেহ হাসান নকীবের কাছে স্মারকলিপি দেয় তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, “শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সৃজনশীলতা-মননশীলতা বৃদ্ধি পায়।
“বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীতকে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়; সেখানে বাংলাদেশে কেন এই পদটি থাকবে না?”

গত ২৮ অগাস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। নতুন বিধিমালায় সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের দুটি পদ নতুন করে সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো সংগীত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি সৃষ্টি নিয়ে সমালোচনা শুরু করে।
তাদের সমালোচনার মুখে রোববার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্টি করা সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে নতুন সৃষ্টি করা শরীরচর্চা শিক্ষকের পদটিও।
এষা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে যে বিষয় পড়ানো হয় হয়, তার বিরুদ্ধে এমন একটা প্রজ্ঞাপন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ও রাবি শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশেও যেখানে শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত ও শারীরিক চার্চার বিষয়টি অব্যহত আছে, সেখানে আামাদের দেশের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার পদে শিক্ষকের কোনো পদ না রেখে শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশকে কেন বাধাগ্রস্ত করা হবে?”
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক হারুন আর রশিদ বলেন, “সংস্কৃতির কার্যক্রম একটা দেশের পরিচয়। তাই সরকার কর্তৃক এই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে সংগীতের মান কিভাবে আরও উন্নয়ন করা যায়, সেই চিন্তা করে এই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করার দাবি জানাই।”