Published : 07 Jan 2026, 02:50 PM
পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতের দাপটে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
বুধবার থেকে পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে বলে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় হানিয়েছেন।
গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার।
মঙ্গলবার একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সড়ক ও মাঠঘাট ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল। ফলে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতের বেলা কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
প্রচণ্ড শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।
বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের মানিকপীর এলাকার ওসমান গণি বলেন, “হিমেল হাওয়া ও কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা থেকেই শীতের দাপট বেড়ে যায়, হাত-পা অবশ হয়ে আসে।”

একই উপজেলার নাজিরপাড়া এলাকার ভ্যান চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, “কুয়াশার কারণে রাস্তার সামনে ঠিকমত দেখা যায় না। রাস্তায় বের হতে খুবই কষ্ট লাগে। তীব্র শীতের কারণে সকাল মানুষজন বের না হওয়ায় যাত্রীও কমে গেছে।”
তেতুঁলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের দশমাইল এলাকার পাথর শ্রমিক ময়নুল ইসলামের জীবনও শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলছিলেন, “প্রচণ্ড ঠান্ডার জন্য নদীর পানিতে নামা যান না। নদী থেকে পাথর উত্তোলন করা বরই কষ্ট কর। তবুও পেঠের তাগিতে পাথর তুলতে হয়।”