Published : 09 Jun 2026, 06:49 PM
কয়েক মিনিটের ঝড়ে গাছ উপড়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার একটি বাজারে বেশ কয়েকটি দোকান ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরীপাড়া বাজার ও আশপাশের এলাকার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এতে গাছ পড়ে কস্তুরীপাড়া-দেওপাড়া-পারখী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের আঘাতে কস্তুরীপাড়া বাজারের আট থেকে ১০টি দোকান আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকটি দোকানের টিনের চালা উড়ে যায় এবং কাঠামোর বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এ ছাড়া একটি বড় গাছ উপড়ে কয়েকটি ইজিবাইক ও অটোরিকশার ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন মুরগি ব্যবসায়ী সেলিম, কাপড় ব্যবসায়ী শাজাহান, মুদি দোকানি মোতালেব, প্রসাধনী ব্যবসায়ী স্বপ্না বেগম এবং জামাল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন।
তারা বলেন, আকস্মিক এই ঘটনায় তাদের দোকান ও মালামালের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অনেকের ব্যবসার মূলধনের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়েছে।

ঝড়ের কারণে কস্তুরীপাড়া-দেওপাড়া-পারখী সড়কের ওপর গাছ ও বড় বড় ডালপালা পড়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকে থাকে।
খবর পেয়ে কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। যৌথ প্রচেষ্টায় সড়ক থেকে গাছ ও ডালপালা সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, ঝড়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রম শুরু করেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আবেদন করার জন্য বলা হয়েছে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাসেল মিয়া বলেন, সড়কে পড়ে থাকা গাছ ও ডালপালা অপসারণের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।