Published : 14 Aug 2025, 02:17 PM
কুড়িগ্রামে বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা, দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে চরাঞ্চলের কৃষিজমি। এদিকে আসন্ন বন্যা মোকাবেলায় বন্যাপ্রবণ ছয় উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ছয় সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে।
পানি বাড়ায় দুধকুমার নদীর অববাহিকার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
দুধকুমার নদী পাড়ের বাসিন্দা ফরিদুল, জুলহাস ও চাঁন মিয়া জানান, যে হারে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে দুই-এক দিনের মধ্যে সমস্ত চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাবে।

তারা জানান, উপজেলার চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের জন্য এ সময়টি চরম দুশ্চিন্তার। বন্যার পাশাপাশি নদী ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
নাগেশ্বরী উপজেলার চর বিষ্ণুপুর এলাকার শামসুল হক জানান, পুরো চরে পানি ঢুকেছে। চরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। রোপা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।
তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, ৫ উপজেলার বহু মানুষ পানিবন্দি
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা মোকাবিলায় ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, সদর, রাজারহাট, চিলমারী ও চররাজীবপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর ফলে তৃতীয় দফায় লালমনিরহাট জেলার তিস্তার বাম তীরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৫২ দশমিক ২৬ মিটার রেকর্ড করা হয়; যা বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ১১ সেন্টিমিটার বেশি।