Published : 20 Sep 2025, 06:03 PM
দুই দিন পর শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মহারশি ও সোমেশ্বরী নদী এখন শান্ত রয়েছে। তবে লোকালয় থেকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত।
উজানের পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নদীর বাঁধ ভেঙে ১১টি পরিবার গৃহহীন ও ২৯৫ হেক্টর জমির রোপা আমন তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন।
টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ১২০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢলের পানিতে এক শিশু ও এক কিশোর নিখোঁজ হন। পরে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃতরা হলেন- ঝিনাইগাতীর তামাগাঁও এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুল্লাহ মিয়ার ১৭ বছর বয়সি ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে ও বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ১০ বছর বয়সি হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার বিকালে ইসমাইলের ডাকাবর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কবর তার জিয়ারত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল। এ সময় তিনি উপজেলা পরিষদের ত্রাণ তহবিল থেকে ইসমাইলের বাবা আব্দুল্লাহর হাতে ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

শনিবার দুপুরে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে ২৯৫ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আংশিক এবং ১৮০ হেক্টর জমির সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে পাঁচ হেক্টর জমির সবজি আংশিক এবং চার হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ তলিয়েছে।
তবে দুই দিন কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় পানিতে তলিয়ে থাকা রোপা আমন ধান ও সবজি জেগে উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যে পলি পড়ার কারণে যেসব কৃষকের রোপা আমন ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, পাহাড়ি ঢলে মহারশি নদীর পাঁচটি স্থানে প্রায় ১২০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। দ্রুত বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শনিবার দুপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ করেছেন শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
এ ছাড়া বন্যায় গৃহহীন ১১টি পরিবারকে ঢেউ টিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ঝিনাইগাতীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার দিঘীরপাড়, আহমদনগর, খৈলকুড়া, রামেরকুড়া ও ডাকাবর এলাকা পরিদর্শন শেষে অর্ধশতাধিক পরিবারকে তিন হাজার টাকা করে বিতরণ করেন তিনি।
রুবেল বলেন, “তারেক রহমানের নির্দেশে আমর সাধ্য মত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষকে ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।”
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বড়িঘর পুনঃনির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা ও বাঁধ সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এ বিএনপি নেতা।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান আকন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমান এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্ল্যাহসহ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত