Published : 27 Apr 2026, 10:55 AM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সকাল থেকে অপেক্ষায় রয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা উলসী গ্রামের বাসিন্দারা।
নবীন-প্রবীণ অনেকে জড়ো হয়েছেন উলশী খালের দুই পাড়ে মাথাল আর কোদাল নিয়ে। অনেকে সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন।
প্রধানমন্ত্রী যশোরে দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করবেন উলাশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের সূচনা করে। উলশী উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলশী-যদুনাথপুরের প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান এই খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন।

পাঁচ দশক আগের সেদিনের ঘটনার ঘটনার সাক্ষী উলশী গ্রামের নবতিপর শাহাদাত হোসেন সোমবারও এসেছেন খাল পুনঃখনন দেখতে।
স্মৃতি হাতড়ে শাহাদাত বললেন, “জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে এসে স্কুল মাঠে নেমেছিলেন। হেঁটে এসে নিজে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে দেন। সেই ঝুড়ির মাটি তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। আমার মাথার টোকা (মাথাল) রাষ্ট্রপতি নিজেই পরে নেন।
“সেদিন খাল কাটা উদ্বোধনে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। পরে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন খাল কাটার কাজে।”
শাহাদাত বলেন, “হাজার হাজার মানুষ বিনা টাকায় খাল কাটার কাজে অংশ নেন। যারা কাজ করতেন, তাদের শুধু দুপুরে রুটি আর গুড় খাওয়ানো হতো। জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসেই মানুষ খাল কাটতে নেমে পড়েছিলেন।”
কৃষক সাদেক আলী অভিযোগ করে বলেন, “দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালটি মরে গেছে। সেচের অসুবিধা হয়। এটি পুনঃখনন হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন করতে এখানে আসছেন; গ্রামের মানুষজন কত যে খুশি আমি বুঝাইয়া বলতে পারব না।”
উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের জিয়াউর রহমানের সেই ফলক এখনো আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফলকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে- “উলসী-যদুনাথপুর বেতনা নদীর সংযোগ প্রকল্প। দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক গণউপযোগ অনুগামী প্রকল্প বাস্তবায়নে সামাজিক আন্দোলনের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে উদ্বোধন করেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১ নভেম্বর ১৯৭৬।”

স্তম্ভের উলটো পিঠে আরেকটি ফলক রয়েছে। তাতে লেখা-“আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার। স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক উলসী-যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের সঙ্গে যশোরবাসীদের প্রত্যয় প্রদীপ্ত করে গেলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, প্রেসিডেন্ট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩০ এপ্রিল ১৯৭৭।”
খাল খনন শেষে সেদিন এ ফলকটি উন্মোচন করা হয়েছিল।

উলশী গ্রামের গৃহবধু ফাতেমা বেগম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৫০ বছর আগে যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী-যদুনাথপুর খাল খনন করেছিলেন। তার দেখানো পথেই আজকে ছেলে এসেছেন খাল কাটতে। আমরা ভাগ্যবান খুব কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখব।”

উলশী গ্রামের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রজনীগন্ধা হাতে অপেক্ষায় আছেন।
৭০ বছর বয়সী আলী হোসেন বলেন, “আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় আছি। তার জন্য রজনীগন্ধা ফুল নিয়ে এসেছি। কাছে তো যাইতে পারব না, দূর থেকে রজনীগন্ধা ফুল দেখাব প্রধানমন্ত্রীকে।”