Published : 19 Jul 2026, 03:10 PM
ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছরে আগে সপ্তম শেণির শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামির আমৃত্যু এবং তিন আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর রোববার দুপুরে আসামিদের উপস্থিতিতে এ দণ্ড প্রদান করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল।
আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে মো. আনিস রানা, একই এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ও শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার সেলিমের ছেলে মো. আনিছুর, বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর ওরফে খতু ও বজলুর ছেলে মো. লালু।
পাশাপাশি আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া আসামিদের দুই লাখ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়াদের এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বরাতে আইনজীবী বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী সদরের দক্ষিণ সালন্দরে তার বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে তাকে পাশের একটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারে নিয়ে যায়। সেখানে আসামিরা ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
আইনজীবী বাদল বলেন, এ স্কুলশিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে শুনতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাকে দেখতে পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পরে পরিবারের লোকজন এসে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে শিক্ষার্থীর বাবা বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
বাদল আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত রোববার এই রায় দিয়েছেন। রায়ে মামলার বাদি ও শিশুটির পরিবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।