Published : 20 Aug 2026, 02:10 PM
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার দুজন রয়েছেন। তাদের মরদেহ দেশের ফেরার অপক্ষোয় রয়েছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন- সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল (সেটেলমেন্ট অফিসের পাশে) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. আলমিুজ্জামান সাজু এবং কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার।
সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মো. ইউনুস আলী সরদারের ছেলে এবং সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতীর খালাতো ভাই।
আর দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী রেবতী তেঁতুলিয়া গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক ভবেশ সরকারের স্ত্রী।
নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
সাজুর খালাতো ভাই তাহমিদ শাহেদ চয়ন বলেন, “চিকিৎসা নিতে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন সাজু। চিকিৎসা শেষে ঘটনার দিন কলকাতার ওই হোটেলে ওঠেন। বুধবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে।
“খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে নগরীর নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় হোটেল শিখা ইন-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই হোটেলে আগুনে পুড়ে ও দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
আগুন যখন লাগে, হোটেলের অতিথিরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলের ঘরগুলো ধোঁয়ায় ভরে গেলে আতঙ্কিত অতিথিরা ছুটাছুটি শুরু করেন।
ওই হোটেলের কাছেই কলকাতার ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। নিউ মার্কেট থানা পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলও উদ্ধারকাজে যোগ দেয়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার লিখেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না। গলগল করে শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যাচ্ছিল।
আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে হোটেলের অতিথিরা বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু গলির মধ্যে ওই ভবনে ঢোকা বা বের হওয়ার পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। সে সময় সেখানে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ওই ভবন থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করেন। তাদের অনেকেই ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন; তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) রয়েছেন।
ভারতে চিকিৎসা শেষে বুধবারই পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল দেবাশীষ দত্তের। মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতায় ফেরেন তারা। রাতে থাকার জন্য ওঠেন নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ। গভীর রাতে সেখানে আগুন লাগলে দগ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে আরেকজন সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহম্মেদ বাবু। ৩৭ বছর বয়সি বাবু ওই এলাকার আদম আলীর ছেলে। আমিন বাজারে একটি প্রসাধনীর দোকান চালাতেন তিনি।
এদিকে আলিমুজ্জামান সাজুর মৃত্যুর খবর সাতক্ষীরায় পৌঁছালে বরেয়া গ্রাম ও পলাশপোল এলাকায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত রেবতী সরকারের প্রতিবেশী বিক্রমজিৎ সরকার বলেন, “চিকিৎসার জন্য রেবতী ভারতে গিয়েছিলেন। তার পরিবারের কেউ এখন বাড়িতে নেই।”
পরে তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:
কলকাতায় আগুনে ৯ মৃত্যু: 'তোমরা আমার দেবাকে এনে দাও', মায়ের আহাজারি