Published : 14 Dec 2025, 02:21 PM
জুলাই গণঅভ্যুত্থান হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসুর সদস্যরা।
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে এ কাজে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার থেকে ভবনটি তালাবদ্ধ থাকলেও বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার বিকালে আমরা প্রতিবাদ মিছিল করি।
“মিছিল শেষে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জাকসুর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেই।”
এদিকে প্রশাসনিক ভবন বন্ধ থাকায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “এটা খুবই বিব্রতকর। সোমবার নতুন হলগুলোতে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন রয়েছে। অফিস কার্যক্রম, ফাইল মুভমেন্ট, আর্থিক লেনদেন সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত।
“তাছাড়া সামনে ভর্তি পরীক্ষা। পাশাপাশি শিক্ষকদের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। সব মিলিয়ে পুরো কার্যক্রমেই এর প্রভাব পড়বে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রব বলেন, “প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে এটা আমি রাতে বাসায় ফিরে জানতে পারি। বিষয়টি নিয়ে আগে কিছুই জানা ছিল না।
“সামনে শহীদ বুদ্ধীজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর অফিস খোলা না থাকলে তা আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
জাকসুর অধিকাংশ সদস্যের ‘সম্মতিতে’ প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার সিন্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধীজীবী দিবসের আয়োজন বিঘ্নিত হবে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “জাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ মর্যাদায় দিবস দুটি পালন করবে।
“প্রশাসনিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় অনুষ্ঠান আয়োজন ব্যাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
তবে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু।
তিনি বলেন, “ঢাকায় থাকার সময় জানতে পারি, ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি কর্মসূচি রয়েছে। পরে জাকসুর পক্ষ থেকে আমি সংহতি জানাই।
“সন্ধ্যায় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে পারি যে, রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দেওয়া হয়েছে। কে বা কারা তালা দিয়েছে, সে বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি।”
জিতু বলেন, “আমি জাকসুর ভিপি হয়েও যদি না জানি, তাহলে এটা জাকসুর সিদ্ধান্ত বলা যায় না। জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি হলে সকল সদস্যেরই তা জানা উচিত। দুই-তিন জন সদস্য গিয়ে তালা দেওয়ার পর জাকসুর নাম ব্যবহার করলে সেটি জাকসুকে ছোট করা হয়।”
এদিকে শহীদ বুদ্ধীজীবী দিবস ও বিজয় দিবসের আগে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড শহীদ বুদ্ধীজীবী দিবস ও বিজয় দিবস যথাযথভাবে পালনের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।