Published : 09 Sep 2026, 09:42 PM
চাঁদপুরে বিচারকার্য পরিচালনায় আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে তিন বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা।
তবে চাঁদপুর জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দাবি, আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবী নেতারা।
বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম মন্টু।
বর্জনের আওতায় থাকা বিচারকরা হলেন- চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধ্বন এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজ শম্পা ইসলাম।
বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের সমন্বয়হীনতা দীর্ঘদিনের দাবি করে শামছুল ইসলাম বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আইনজীবী সমিতির নেতারা মৌখিকভাবে অবহিত করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আদালত বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
তিনি বলেন, শুধু ওই তিনটি আদালত নয়, আরও কয়েকটি আদালত এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতেও আইনজীবীদের সঙ্গে ‘শিক্ষক-ছাত্রের মত’ আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আইনজীবীদের হয়রানির শিকার হতে হয় বলে দাবি শামছুল ইসলামের।
এসব সমস্যা সমাধানে জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বার সভাপতি। পাশাপাশি আইনজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সভায় সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে শামছুল ইসলাম বলেন, আগামী সাত দিন আদালত পুলিশ পরিদর্শকের দপ্তর থেকে মামলার কপির জন্য কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। আদালতের পেশকারসহ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন আচরণে আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অসম্মানিত হয়ে আসছেন বলেও সভায় অভিযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান না হলে লিখিতভাবে সব বিষয় তুলে ধরে বার কাউন্সিলকে অবহিত করা হবে।
সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো আইনজীবী বা তাদের সহকারী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শামছুল ইসলাম।
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের পরিচালনায় সভায় পিপি কোহিনুর রশিদ, জিপি এ জে এম রফিকুল হাসান রিপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কোহিনুর বেগম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইকবাল বিন বাশার, সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, একিউএম মোস্তফা কামাল, আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ (১) এবং মো. জসিম মেহেদী বক্তব্য দেন।
এদিকে তিন বিচারকের আদালত বর্জন নিয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় আদালতের নাজির মো. ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল থেকে বিভিন্ন মামলার প্রয়োজনে আসা বিচারপ্রার্থীরা বিচারকক্ষের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। দুপুরের পর বিচারকরা কার্যক্রম শুরু করলেও আইনজীবীদের অনুপস্থিতির কারণে অনেক মামলার শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামিন আবেদনে সভাপতি-সেক্রেটারি ও পিপিকে আগেই অবগত করার বিষয় এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা শুনানিতে আইনজীবী নেতাদের ‘বেআইনি আবদার’ রক্ষা না করায় তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পেরেই মূল ঘটনা আড়াল করতে আইনজীবী নেতারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আইনগত কোনো ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও আদালত বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।