Published : 27 Jan 2026, 09:30 AM
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ’।
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থীর দুজনই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। একজন ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল হক আনু; আরেকজন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ। তিনি ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইদুর রহমান তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা এস এম জার্সিস কাদিরের পক্ষে।
ভোটারদের একটি অংশের অভিমত, বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ দাউদার মাহমুদ নিজেকে দলীয় পরিচয়ের বাইরেও একজন ‘স্থানীয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, এলাকার লোকজনের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তার একটি ‘শক্ত’ ভোটব্যাংক রয়েছে।
অপরদিকে দলীয় বিভক্তি ও ‘বিদ্রোহীর’ উপস্থিতি সত্ত্বেও বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল হক আনুও ‘পিছিয়ে নেই’। দলের বিশাল কর্মীবাহিনী তার জন্য ‘শক্তি’ হিসেবে কাজ করছে।
আবার অনেকে মনে করছেন, এনসিপির এস এম জার্সিস কাদির জামায়াতের ‘পুরোপুরি’ সমর্থন পেয়েছেন। সেটি ভাল বিষয়। জামায়াতের একটি বড় ‘ভোট ব্যাংক’ আছে, সেটি তার দিকে ঝুঁকতে পারে।
এখন ভোটের মাঠে ধানের শীষ, শাপলা কলি, নাকি ঘোড়া দৌঁড়ে এগোবে- তা ‘জটিল সমীকরণে’ পরিণত হয়েছে।
শুরু থেকেই দ্বন্দ্ব-সংঘাত
নাটোরে চারটি আসনের তিনটিতে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা হলেও ঝুলে ছিল সিংড়া আসনের মনোনয়ন। তখন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা দলের নীতি-নির্ধারকদের কাছে নিজের অবস্থান জানান দিতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল, সভা-সমাবেশ ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর ৪ ডিসেম্বর বিএনপি দ্বিতীয় ধাপে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে মনোনয়ন দেয়।
মনোনয়ন ঘোষণার পর আরও সক্রিয় হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারে নামেন আনোয়ারুল। যদিও বিএনপির অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এই মনোনয়নকে ‘প্রাথমিক মনোনয়ন’ বলে নিজেদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে মাঠে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকেন দাউদার মাহমুদ।

ভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলা-মামলা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ৮ জানুয়ারি দাউদারের সমর্থক আবু রায়হানকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে আনোয়ারুলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যদিও এ ব্যাপারে ‘কিছুই জানেন না’ বলে তখন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন বিএনপি প্রার্থী।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত আবু রায়হান তখন বলেছিলেন, “আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থক সোহান, রমজান, আউয়াল, মিঠু, ফরহাদ ও রবিউল আমাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়েছে।”
এ ঘটনায় পরে আহত রায়হানের ছেলে মেহেদী হাসান বিএনপির প্রার্থী আনোয়ারুলসহ ২০ জনকে আসামি করে সিংড়া থানায় মামলা করেন।
এত কিছুর পরেও মাঠ ছেড়ে না যাওয়া এবং দলীয় নির্দেশ অমান্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে দাউদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিংড়াতে ভোটই হবে দুইটা। প্রতীক এখানে কোনো ব্যাপার না। যেখানে জামামাতের প্রার্থী নাই, আওয়ামী লীগের মত একটি সংগঠনের প্রার্থী নাই, সেখানে মানুষ প্রার্থী হিসেবে বেছে নিচ্ছে ‘আনু ভার্সেস দাউদারকে’।
“আমিও বিএনপি, আমার হৃদয়ে ধানের শীষ। আমি পরিস্থিতির কারণে আপস করি নাই। আমি মনে করি, আমার নেতাকর্মীর প্রতি অন্যায়-অবিচার হয়েছে, আমার প্রতি অন্যায়-অবিচার হয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি প্রার্থী হয়েছি।”
তিনি বলেন, “মনোনয়ন দেওয়ার মালিক দল আর ভোট দেওয়ার মালিক জনগণ। আমার কর্মী- সমর্থকদের এখনও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হয়তো তাদের অনেককে বহিষ্কার করবে, আমাকেও বহিষ্কার করতে পারে। আমি বহিষ্কারের অপেক্ষায় আছি।
“ত্যাগের মূল্যয়ন করা হয়নি তো, আনু সাহেবকে মনোনয়ন দিয়ে। উনি আওয়ামী লীগের জুনাইদ আহমেদ পলকের (সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী) চাচা শ্বশুর হওয়ায় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই দলের মধ্যেই বড় একটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।”
বিএনপির এ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বলেন, “সিংড়ার মানুষ বরাবরই স্থানীয় মানুষের নেতৃত্ব চায়। যেহেতু আমি স্থানীয়; সবসময়ই তাদের পাশে আছি। সিংড়াতেই বড় হয়েছি, সিংড়ার মানুষের কী কী সমস্যা আছে আমি জানি। আমার যত পরিকল্পনা সিংড়ার মানুষকে নিয়েই। অবহেলিত চলনবিলকে পর্যটন এলাকা করে গড়ে তুলতে চাই, কৃষির বিপ্লব ঘটাতে চাই, কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন চাই।
“এ ছাড়া সিংড়া পৌরসভা, গ্রামের রাস্তাঘাটসহ মানুষের মঙ্গল, কল্যাণে ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সিংড়ার মানুষ আমাকে চেনেন, আমি তাদেরই ছেলে, তারা বিপুল ভোটে আমাকে জয়ী করবে।”
‘বিদ্রোহী’ মাঠে সরব থাকলেও ‘বিপুল ভোটে’ জয়ের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন আনোয়ারুল ইসলাম আনু। তিনি বলেন, “আমি মানুষের উপকার ছাড়া ক্ষতি করেছি এ রকম রেকর্ড নেই। আমার কঠিন শত্রু যারা, তাদেরও আমি আপন করে নেওয়ার চেষ্টা করি। আমি পথে ঘুরে বেড়াই, অনেকে ভয়-টয় দেখায়, আমার কাছে কোনো বাধা, প্রতিবন্ধকতা মনে হয় না।
“মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, সিংড়ার মানুষও আশা করি সেটা মূল্যয়ন করবে। আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব।”
তিনি বলেন, “আমার নেতা তারেক রহমান আগে থেকেই আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। আমি দলের নেতাকর্মী ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনে সিংড়ার মানুষের সব দুঃখ-দুর্দশা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছি।”
ভোটে জয় পেলে সিংড়ার অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ সব সমস্যা দূর হবে বলে জানান আনোয়ারুল।
কী বলছেন সমর্থকরা
দাউদার মাহমুদের সমর্থক উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সবুজ মাহমুদ বলেন, “২০০৩ সাল থেকে তার সঙ্গে আমরা সক্রিয় রাজনীতি করি। সিংড়াতে যত বিএনপি, বা সাধারণ লোক সবার কাছে এক কথায় স্থানীয় লোক দাউদার মাহমুদ। যারা প্রার্থী আছেন, তার মধ্যে তিনিই সিংড়াতে থেকে রাজনীতি করেন। আনু ভাই দলের মনোনয়ন পাইছে ঠিক আছে। কিন্তু ২৮-২৯ বছর ধরে উনার (দাউদারের) নাটোরেই বাসা। আর আনু ভাই বর্তমানে বাসা ভাড়া নিয়ে রাজনীতি করতেছেন।

“আমি মনে করি, সিংড়ার লোক যাকে সবসময় কাছে পাবে, তার কাছে যাবে। খরচ করে বা নাটোর গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে হবে না। তাই সিংড়ার লোক দেখছে, ভাল হোক-খারাপ হোক দাউদার মাহমুদকে দলমত নির্বিশেষে বেছে নিছে। এটা আপনারা যাচাই করলেও পাবেন।
“জামায়াতের প্রার্থী নাই, আনু ভাই নাটোর থেকে যাতায়াত করে, জার্সিস কাদিরও কিন্তু রাজশাই, ঢাকা এগুলাত থাকে। স্থানীয় জনগণ সেটা দেখছে। আর তরুণদের সব ভোট তরুণ প্রার্থীকেই দেয়, সেগুলো কিন্তু দাউদার মাহমুদ পাবেন।”
ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল হক আনুর সমর্থক সিংড়া থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, “এমনিতেই উনি (আনু) খুব ভদ্র মানুষ, অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। আর ভদ্র মানুষের পক্ষে সবাই থাকেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মানুষ মুখে অনেক কথা বলতে না পারলে প্রতিবাদ যদি নীরবে করার সুযোগ পায়- সেই প্রতিবাদটা ব্যালটের মাধ্যমে অবশ্যই হবে। মানুষ ভাল চায়, মানুষ কোনো মব সৃষ্টিকারী, অন্যায়কারী, দুবৃর্ত্ত, মার্ডারার, খুনি, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এদের তো দেখতে চায় না। মানুষ শান্তি চায়।”
“আনু স্যারের হাজার হাজার ছাত্র আছে। সিংড়ার পরিবর্তন মানুষ দেখতে চায়, সিংড়ার উন্নয়ন মানুষ দেখতে চায়। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার ছিল, এখন একটা সুযোগ আসছে, এই সুযোগ মানুষ হাতছাড়া করবে না, ইনশাআল্লাহ।”
শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থক, এনসিপির সিংড়া উপজেলার সদস্যসচিব মিজানুর রহমান বলেন, “এখানে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আছে। দুজনের খুব হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা আছে। আমাদের তো জোট আছে। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল, যেহেতু আমরা বিপ্লবী ও গণঅভ্যুথানের দল, পাশাপাশি জোটের দল। সবার সঙ্গেই আমাদের সুসম্পর্ক আছে।
“আপনারা জেনেছেন, এখানে লড়াইয়ে বিজয় হবে আসলে দাঁড়িপাল্লা বা জামায়াতের। যেহেতু জামায়াত আর আমরা এক। তাই যে বিজয়টা তাদের হত, সেই বিজয়ই আমরা ১০ দলীয় জোট প্রার্থীর হবে। সাজানো-গোছানো পরিকল্পনা নিয়ে আমরা মাঠে আছি, সুন্দর সাড়া আছে। আমরা বিশ্বাস করি, সিংড়া যে মার্ডারগুলো হচ্ছে, সমস্যাগুলো হচ্ছে, মানুষ ধীরে ধীরে মুখ ফিরায়ে আমাদের পাশে চলে আসবে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট যাওয়ার পরে আরেকটা পক্ষ ঠিক একই রকম সমস্যার সৃষ্টি করছে। শুধু সিংড়ায় নয়; সারাদেশে এগুলোর প্রভাব তাদের প্রতি পড়বে। জনগণের আস্থাভাজনের পাশাপাশি ১০ দলীয় জোটের যে অবস্থান সেটা থেকেই আমরা বিশ্বাস করি, বিজয় সুনিশ্চিত।”
১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘিরে ‘উত্তেজনা’
১৫ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেয়। এনসিপির এস এম জার্সিস কাদিরকে জোট প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়। পর দিন সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে একটি মানববন্ধনে জার্সিস কাদিরকে ফ্যাসিবাদের দোসর, সুবিধাভোগী, বিভিন্নরূপীসহ নানান নেতিবাচক বিশেষণে আখ্যায়িত করা হয়।

১৭ জানুয়ারি বিকালে সিংড়ার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এস এম জার্সিস কাদিরের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানায় জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা। এ সময় মেহেদী হাসান নামে এক জুলাই যোদ্ধা লিখিত বক্তব্যে জার্সিস কাদিরের বিরুদ্ধে ‘সিংড়ার মানুষের খোঁজ না নেওয়ার’ অভিযোগ তুলে তাকে ‘ফ্যাসিবাদের ধারক’ বলেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আমলে নানান সুবিধা ভোগের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
১৮ জানুয়ারি দুপুরে একই দাবিতে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ‘জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবার’ ও ‘সিংড়ার সচেতন নাগরিক সমাজ’।
বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সিংড়া পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান, চৌগ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি বায়োজিদ হোসেন।
এ সব কর্মসূচির প্রতিবাদে ১৮ জানুয়ারি বিকালে সিংড়ার ফেরিঘাট এলাকায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘সিংড়া বিপ্লবী জনতার’ ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জার্সিস কাদিরের সমর্থকেরা।
সিংড়া এনসিপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান বলেন, “১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা জার্সিস কাদিরের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল মানববন্ধন করেছে, সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। জার্সিস কাদির ছাত্র আন্দোলনের সময় সক্রিয় ছিলেন। রাজশাহী নিউ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ থাকায় বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তৎকালীন এমপি-মন্ত্রীদের সঙ্গে তার ছবি রয়েছে। যেসব ছবি ব্যবহার করে অপতথ্য প্রচার করছে একটি কুচক্রী গোষ্ঠী। এগুলো ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছু নয়।”
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী এস এম জার্সিস কাদির বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কর্মী-সমর্থকরা দলের লোক মনোনয়ন পাবে, এটা চাইতেই পারে। কিন্তু আমরা এখন এক, একীভূত সবাই। সব কিছু ভুলে গিয়ে তারা এখন আমাদের সমর্থন করবে। জোট থেকে সহযোগিতার বিন্দুমাত্র ত্রুটি থাকবে বলে আমি মনে করি না।”
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অথবা কারো প্রলোভনে পরে একটি পক্ষ নেতিবাচক মন্তব্য ছড়িয়েছে। এগুলো ভোটের উপরে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমি নতুন মুখ, আমার আরও একটি পরিচয় আছে।
“প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা ভেঙে কিছু নতুনত্ব সৃষ্টি আমি করতে পারব। সৃজনশীল একটি রাজনৈতিক ধারা সিংড়ায় প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হব। যেটা অনুকরণীয় হবে সারাদেশের জন্য।”
জোটের প্রার্থী ঘোষণার আগে নাটোরে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মো. সাইদুর রহমান। নির্বাচনি এলাকার পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে চষে বেড়িয়েছেন তিনি।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ঘোষণার পরে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সংগঠন আমাকে প্রার্থী করেছিল। সংগঠন যদি জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক প্রয়োজনে আমাকে সরায় দেয় কিছু করার নেই। আমার পজিশন খুবই ভালো ছিল। তবে দেশের জন্য দলের যে সিদ্ধান্ত, আমারও সেই সিদ্ধান্ত।”

“সিংড়ার মানুষ আবেগের পড়ে নানা কর্মসূচি করছেন। কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত, দলের সিদ্ধান্ত তাদের জানিয়ে দিয়েছি।”
জোটের প্রার্থীকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সমর্থনের ব্যাপারে জানতে চাইলে নাটোরের জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, “কেন্দ্রের সিন্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে আমরা রিভিউয়ের জন্য একটা আবেদন করেছিলাম। সিংড়া আমাদের খুব ভালো একটা আসন।
“উনাদের দিলে তো সমস্যা হত না, যদি উনারা বের হয়ে আসতে পারত। কিন্তু উনারা তো ভোট পাবেন না, বের হতে পারবে না। সমর্থন পাওয়া নিজের উপরে, প্রার্থীর ব্যক্তি ইমেজের উপরে অনেক কিছু নির্ভর করে। জোটের হয়েছে এখন আমাদের সমর্থনও থাকবে।”
এ আসন বরারবরই বিএনপির
৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৪ জন ভোটারের নাটোর-৩ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এ আসনে বরাবরই বিএনপির অবস্থান শক্ত। একমাত্র জুনাইদ আহমেদ পলক ছাড়া এখানে আওয়ামী লীগ থেকে কেউ কখনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি।
১৯৯১ সালে এখানে জামায়াতে ইসলামী থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবু বকর শেরকোলী। ১৯৯৫ সালে তিনি মারা গেলে উপ-নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির কাজী গোলাম মোর্শেদ।
পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনিই বিজয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে এখানে টানা সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তাহলে এবারের লড়াইটা কেমন হবে- জানতে চাইলে সিংড়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান খোকন বলছেন, “সিংড়ার বিএনপির ভোট যেমন ভাগ হয়ে দুই দিকে যাবে। জামায়াতের ভোট তেমন শুধু এনসিপিতে যাবে না। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা হবে ত্রিমুখী।
“আবার জামায়াতের কর্মী-সমর্থকেরা সত্যি যদি জোটের প্রার্থীর জন্য কাজ করে, তার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সমর্থনে এগিয়ে যাবে জার্সিস কাদির। আর যদি না করে তাহলে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে জয় কঠিন হয়ে পড়বে ধানের শীষের প্রাথীর।”