Published : 30 Jan 2026, 11:59 PM
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, ‘উচ্চশব্দে গান বাজানোয়’ বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাদের পিটিয়ে হত্যা করেন প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া।
হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পর বুধবার রাতে আলী হোসেন (২৮) নামে ওই ব্যক্তিকে গজারিয়া-দাউদকান্দি সেতুসংলগ্ন পাখির মোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বলেন, “মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটান। আলী হোসেন নিয়মিত মাদক সেবন করেন। ভবঘুরে জীবনযাপন করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।”
গত ১৯ জানুয়ারি সকালে সিরাজদিখানের রাজানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আমেনা বেগম (৩২) ও তার আট বছরের মেয়ে মরিয়মের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আমেনার মা মনোয়ারা বেগম নাম না জানা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন সকালে আমেনা বেগম ফোনে ভিডিও দেখছিলেন। ‘শব্দ কমাতে বলায়’ তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলী হোসেন কাঠের লাঠি দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করেন। মেয়ে মরিয়ম এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে হত্যা করেন।
পুলিশ বলছে, আমেনা বেগমের পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে ভাড়ায় থাকলেও তার সঠিক পরিচয় ও ঠিকানার ব্যাপারে বাড়ির মালিকের কাছেও স্পষ্ট তথ্য ছিল না। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর থেকেই গজারিয়া ও দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন আলী। কখনো বাগান, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে তিনি স্থান পরিবর্তন করছিলেন।
টানা অভিযানের একপর্যায়ে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লাঠিও উদ্ধার করা হয়েছে।