Published : 29 Aug 2025, 06:09 PM
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পাঁচ দিন ধরে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বন্যহাতির একটি দল। এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষক।
এদিকে বন্যহাতি দেখতে প্রতিদিন সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে উৎসুক জনতা। এতে যেকোনো সময় প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হচ্ছে বলে জানান ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।
বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত থেকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদিগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনী, বড় গজনী, তাওয়াকুচা এলাকার গারো পাহাড়ে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০টি হাতির একটি দল অবস্থান করছে।
হাতির দলটি দিনের বেলা খাদ্যের সন্ধানে পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করলেও সন্ধ্যা নামার আগেই লোকালয়ে নেমে আসে। আর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে হইহুল্লোড় করে হাতির পালটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে বন্য হাতির দলটি সন্ধ্যাকুড়া এলাকার গোলাপ, আকাশমনি কাঠের বাগান ও বিভিন্ন সবজি খেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন। হাতি সরাতে মানুষ হইহুল্লোড় করছেন।

এ সময় বন্যহাতির দলটি ধান ও বিভিন্ন সবজির খেত পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে। শুক্রবার বন্যহাতির দলটি রাংটিয়া এলাকায় অবস্থান করছে।
সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার বলেন, “বুধবার রাতে বন্যহাতির দল আমার ২৫ শতাংশ ধানের জমি পা দিয়ে পিষে নষ্ট করেছে। আমি একজন অসহায় মানুষ; খুব কষ্টে করে সংসার চালাই। হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ আমরা।”
গুমড়া গ্রামের সাব্বির বলেন, “হাতি আমার বরবটি ও বেগুন চাষের খেত নষ্ট করেছে। আমি নিজে ছোট-বড় হাতি দেখেছি। কম বেশি সবারই ক্ষয়ক্ষতি করছে হাতির পাল।”
হাতির অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এই কৃষক।
নলকুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পাহাড়গুলোতে খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবের কারণে বন্যহাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিদিন খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতির দল।
এতে মানুষের ঘরবাড়িসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে মানুষ হাতির আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “হাতি তার স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র হারিয়ে ফেললে বসতিতে খাবার খোঁজে। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী মূলত আমরা নিজেরাই।”
গারো পাহাড়ে হাতির এই অত্যাচার দীর্ঘ দিনের; এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবী।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, হাতির খাবারের জন্য সুফল বাগান তৈরি হয়েছে। সেখানে লতাপাতা রয়েছে। হাতি সেসব খাচ্ছে। পাশাপাশি চলতি মাসে গারো পাহাড়ের প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কলাগাছ বড় হলে খাবারের সংকট অনেকটাই কমবে।
বনবিভাগ ও ইআরটি হাতিকে পাহাড়ের জঙ্গলে পাঠানোর সার্বক্ষণিক চেষ্টা করছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সীমান্তে বন্যহাতির খাদ্যের ব্যবস্থা করা গেলে হয়ত হাতি লোকালয়ে আসবে না। তবে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।