মাদ্রাসা ছাত্রীকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’ মামলায় মসজিদের ইমামসহ গ্রেপ্তার ৩

ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসামিরা টাকা দাবি করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2022, 01:08 PM
Updated : 28 Nov 2022, 01:08 PM

বরিশালে মাদ্রাসা ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণ মামলায় একটি মসজিদের ইমামসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজন মাদ্রাসার শিক্ষক, অপরজন কলেজ ছাত্র। 

রোববার মামলার পর গভীর রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান। 

একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমানুল্লাহ বারী জানান, গ্রেপ্তাররা হলেন জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার গাঙ্গুলী বাড়ি মোড় এলাকার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম আবু সাইম হাওলাদার (২১), বরিশাল নগরীর রূপাতলী উকিল বাড়ি সড়কের জামিয়া কাসিমিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আবিদ হাসান ওরফে রাজু (২১) এবং বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ছাত্র হৃদয় ফকির (২২)। 

ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, দলবেঁধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা ও অশ্লীল ভিডিও ধারণের অভিযোগে রোববার রাতে মামলা করেন ১৭ বছর বসয়ী ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর মা। 

“মামলার তিন আসামি আলাদা এলাকার বাসিন্দা হলেও একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। সেই সূত্রে পরিচয় এবং ঘটনার সময় পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একই বাসায় মিলিত হয়ে অপরাধ সংগঠিত করেন বলে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।” 

মামলার নথির বরাতে ওসি জানান, একই এলাকার (বাবুগঞ্জ) ২০ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর বিয়ে ঠিক হয়। বিষয়টি সাইম, আবিদ ও হৃদয় (ওই যুবকের তিন বন্ধু) জানতে পারে। 

গত ২০ অগাস্ট কলেজ ছাত্র হৃদয় ওই ছাত্রীর মোবাইলে ফোন দিয়ে জানান, তার বন্ধুর সঙ্গে অন্য মেয়ের সম্পর্ক আছে। হবু বরের বিষয়ে মসজিদের ওই ইমাম এবং মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছ থেকে একই কথা শুনে বিশ্বাস করেন মাদ্রাসা ছাত্রী। 

তারা আরও জানান, ২৭ অগাস্ট নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শের-ই-বাংলা সড়ক ডা. হামিদ লেনের হৃদয় ফকিরের ভাড়া বাসায় অন্য মেয়ে নিয়ে যাবেন ওই যুবক। হাতে-নাতে ধরার জন্য মাদ্রাসা ছাত্রীটিকে সেখানে যেতে বলেন আসামিরা।

তাদের কথা মত মেয়েটি সে দিন সকালে হৃদয়ের বাসায় যান। তখন তাকে বাসায় আটকিয়ে তিন জনেই পালাক্রমে ধর্ষণ করেন এবং মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন। 

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, এরপর ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে একই বাসায় নিয়ে আসামিরা একাধিকবার ধর্ষণ করেন। 

শুধু তা-ই নয়, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটির কাছে টাকা দাবি করেন। 

টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা তাদের ধর্ষণের ভিডিও মেয়েটির হবু স্বামীর বাবাকে দেখান। 

এরপর হবু স্বামীর সহায়তায় রোববার ওই ছাত্রীর মা থানায় মামলা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক