১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে বামদের মধ্যেও শিবির ঢুকে গেছে: ছাত্রদল নেতা

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান একথা বলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Sep 2025, 07:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:14 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যেও ইসলামী ছাত্রশিবির ঢুকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতা। 

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি ক্যাম্পাস যেখানে বামদের মধ্যে শিবির ঢুকে গেছে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট সংলগ্ন আমতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আবাসিক হলে ৯১ ছাত্রীকে নিয়ে শাখা ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আমান বলেন, “গুপ্ত এই শিবিররা অন্য সংগঠনের পদ নিয়ে বসে থাকে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে এমন নজির নেই। ৫ অগাস্টের পর যত নারী বুলিংয়ের শিকার হয়েছে, কমেন্ট সেকশন থেকে তাদের আইডি ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যায়, তারা কোন আদর্শে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে যত জনসংখ্যা আছে, তার থেকেও শিবিরের বট আইডির সংখ্যা বেশি।”

তার এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল। 

তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে মোটামুটি আটটা বাম ও বামঘেঁষা ছাত্র সংগঠন সক্রিয় আছে। ছাত্রদলকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে, সুনির্দিষ্ট কোন বাম সংগঠনে শিবির ঢুকেছে। অন্যথায় এই ধরনের ঢালাও অপবাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, “ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে উপস্থাপন করুন। আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। কিন্তু মনগড়া বক্তব্য কিংবা দায় দিয়ে দেওয়া রাজনীতি মোটেও কাম্য নয়। 

“বরং ওনার অভিযোগ বাস্তবে আমরা ছাত্রদলের মধ্যে দেখতে পাই। মেয়েদের বুলিং, ট্যাগিং, বডি সেমিং থেকে শুরু করে বিরোধী পক্ষকে কটাক্ষ করা এবং নিজ দলের পক্ষে ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর জন্য শুধু জিয়া বট ফোর্সের সদস্যরাই নয়, ভিয়েতনামী, শ্রীলংকা, মালেশিয়ান আইডিও দেখতে পাই।”

সোমবার রাতে হল প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই ৩৬ হলের অনাবাসিক ও গণরুমের ছাত্রীদের মধ্যে যারা দেরিতে (রাত ১১টার পর) হলে ফিরেছেন তাদের মধ্যে ক্রমিক নম্বর ১ থেকে ৪৫ পর্যন্ত মঙ্গলবার এবং ক্রমিক নম্বর ৪৬ থেকে ৯১ পর্যন্ত বুধবার বিকাল ৪টায় প্রাধ্যক্ষের অফিসে উপস্থিত থাকবেন। যদিও পরে সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার দুপুরে নোটিসটি প্রত্যাহার করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি তাদের ফেইসবুক পেইজে এ খবর দিয়ে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ নামের একটি ফেইসবুক গ্রুপে ফটোকার্ডটি শেয়ার দেন ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি জান্নাতুন নাঈম তুহিনা।

তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল ছাত্রদলের সহসভাপতি আনিসুর রহমান মিলন ওই ফটোকার্ডের নিচে লেখেন, “এগুলো ছাত্রী নয়, এগুলো বিনা পারিশ্রমিক যৌনকর্মী।”

মিলনের ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই ৩৬ হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ করেন। এরপর রাতেই মিলনের পদ স্থগিত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে শাখা ছাত্রদল। সবশেষ নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আবাসিক হলের ৯১ ছাত্রীকে ‘বিনা পারিশ্রমিকের যৌনকর্মী’ বলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আমান বলেন, “বিষয়টি জানার পর পরই রাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট নেতার কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দোষী মনে করে আজীবনের জন্য বহিষ্কার এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরবর্তীতে দলীয় অন্য কারোর দ্বারা, এমনকি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক থেকেও এমন ঘটনা ঘটলে তার পরিণতিও একই হবে।”

ছাত্রদলের ভেতরে শিবির অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি-না এমন প্রশ্নে আমান বলেন, “প্রকাশ্যে রাজনীতি করা যাবে না- এমন কোনো রাজনৈতিক ইশতেহার তাদের থাকলে বোঝা যেত কতজন যুক্ত আছে। যেহেতু নেই, সেহেতু তারা বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাকেও শিবির সুকৌশলে অনুপ্রবেশ করিয়েছিল কি-না সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

আরও পড়ুন:

রাবি ছাত্রীদের নিয়ে ফেইসবুকে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’, ছাত্রদল নেতা আজীবন বহিষ্কার

দেরিতে হলে প্রবেশ: রাবির ৯১ ছাত্রীকে নোটিস, সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার