১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শার্শায় বেড়েছে পাটের আবাদ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

এ বছর উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর।

আসাদুজ্জামান আসাদ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 12:42 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

যশোরের শার্শায় বছর দুয়েক আগেও যে জমিতে অন্য ফসলের চাষ হতো, এবার সেসব জমির অনেকটাই দখল করেছে পাট। উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজ পাটগাছ। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, এ বছর পাঁচ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর, অর্থাৎ এক বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চল পাট চাষের উপযোগী দো-আঁশ মাটি, মান ভালো, অনুকূল পরিবেশে রোগ বালাই কম, কৃষকদের প্রতি কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণ ও নিয়োমিত পরামর্শ, সরকারি ভর্তুকির বিনামূল্যে বীজসহ অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় পাটের চাষ বেড়েছে। 

এ বছর আবহাওয়াও পাটের অনুকূলে ছিল। ফলে অনেক এলাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ ভালো। এখন উপজেলার মাঠগুলোয় কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। আবার কোথাও পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে, কোথাও পাট ধোঁয়ার কাজে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় কৃষি সেবাইন জাতসহ দেশি ও উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের আশা, বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত পাট পাওয়া যেতে পারে। 

তবে ভালো ফলনের পরও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎপাদন খরচ নিয়ে। পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও জাগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচও। ফলে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মিললে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম বলেন, পাট চাষে পরিশ্রম অনেক। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত একের পর এক খরচ করতে হয়। এবার পাট কাটতে ও জাগ দিতে শ্রমিকের পেছনে খরচও বেড়েছে। তেলের দামও বেড়েছে। তাই বাজারে দাম কমে গেলে কৃষকের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।

আরেক পাটচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, “বীজ বিনামূল্যের কিন্তু জন, মুজুরি, সার, তেলের দাম বেশি। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করি। কিন্তু ফসলের ন্যায্য মূল্য পাই না। 

“ফসলের ন্যায্য মূল্য না পেলে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ব। সরকারের কাছে একটাই দাবি আমরা যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পাই, সরকার যেন কৃষকদের দিকে নজর দেয়।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এখন সাড়ে তিন হাজার টাকা মণ দরে কিনছি। 

“এ সময় কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত উৎপাদক কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।”

এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয় হয়। জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ছাউনি এবং বিভিন্ন কাজে পাটখড়ির ব্যবহার থাকায় দেশের বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। ফলে পাটের বাজারদর কিছুটা কম হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

তবে পাটের দাম স্থিতিশীল না থাকলে সামগ্রিকভাবে চাষিদের লাভবান হওয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি। 

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে এবং কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাট জাগ দেওয়ার সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

মানসম্মত আঁশ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটিই ভালো থাকবে, বলেন এ কৃষি কর্মকর্তা।