জেলা পরিষদ নির্বাচন: রংপুরে ‘কাঠখড় পোড়াতে হবে’ আওয়ামী লীগকে

রংপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলেরও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

আফতাবুজ্জামান হিরুরংপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2022, 08:53 AM
Updated : 9 Sept 2022, 08:53 AM

দ্বিতীয় জেলা পরিষদের নির্বাচনে রংপুরে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য মাঠে নেমেছেন ডজনখানেক আওয়ামী লীগ নেতা। তবে দেশের অন্য জেলার চেয়ে এখানে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

কারণ রংপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য রাজনৈতিক দলেরও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়নের নয়টিতেই জামায়াত-বিএনপি ভাগ বসিয়েছে।

তাই জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকেও এবার ব্যাপক কাঠখড় পোড়াতে হবে বলে মনে করছেন দলের স্থানীয় নেতারা। কেন্দ্র থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে কেমন প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়া উচিত সে প্রসঙ্গে রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিগত দিনের চেয়ে এবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কারণ গত নির্বাচনে বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন।

“এবার ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত, জাসদসহ অন্য দলের প্রার্থীরাও নির্বাচিত হয়েছেন। তাই দলীয় মনোনয়ন পেলেও এবারের নির্বাচনে প্রার্থীকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।”

এদিকে তফসিলের পর রংপুর জেলা পরিষদের নির্বাচনী আলোচনার পালে হাওয়া লেগেছে। বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা, চলছে অতীতের নানা হিসেব-নিকেশ। এখন একটাই আলোচনা কে হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান?

জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন এমন তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে।

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা প্রশাসক অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন আহমেদ, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ, এ কে এম ছায়াদৎ হোসেন বকুল, জয়নাল আবেদীন, রোজী রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ নবী উল্লাহ পান্না, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য নজমুল ইসলাম ডালিম, রেজাউল ইসলাম মিলন, দিলশাদ ইসলাম মুকুল, মহানগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আলেয়া খাতুন লাভলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকিয়া সুলতানা চৈতী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক, সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী সুমনা আক্তার লিলি, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পারভিন আক্তার।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ছাফিয়া খানম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমি নির্বাচিত হয়ে দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়াসহ প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে চেষ্টা করেছি।

“আগামীতে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে পিছিয়ে থাকা উপজেলাগুলোতে উন্নয়নের পরিকল্পনা আছে।”

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইলিয়াস আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছি। হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করবো।”

তিনি আরও বলেন, “জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়ে আমি নির্বাচিত হলে রংপুরের কোন দিকগুলো পিছিয়ে আছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেব।”

মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আলেয়া খাতুন লাভলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলের জন্য সব সময় নিবেদিত হিসেবে কাজ করছি। দল যদি আমাকে মনোনীত করে আমি আশাবাদী চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এবং একটি সুন্দর জেলা পরিষদ গড়ে তুলবো।”

জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকিয়া সুলতানা চৈতী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জেলা পরিষদের মতো একটি জায়গায় আমার দায়িত্ব পালনের সুযোগ হলে দল সুসংগঠিত করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সব সময় পাশে থাকবো।

“সেই সঙ্গে একটি মডেল জেলা পরিষদ গঠনে যে সকল উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন তা মাস্টার প্ল্যান করে বাস্তবায়িত করবো।”

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নজমুল ইসলাম ডালিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সাবেক ছাত্রনেতা। বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছি। দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।”

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। বিগত দিনে দলের জন্য যাদের অবদান রয়েছে, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন তাদেরকেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে আমি মনে করি।”

এদিকে এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী বা বামদলগুলোর তেমন কোনো আলোচনা চোখে পড়েনি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা যাবেন না। ২০১৬ সালের প্রথম জেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপি।

জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বলেন,“আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচনে যাবো কিনা সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। যদি কেন্দ্র থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসে তবে আমরা জানাবো।”

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, এবার রংপুর জেলা পরিষদে ১২ জন নির্বাচিত হবেন বলে জানিয়েছেন রংপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ফরহাদ হোসেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এখানে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৯৫ জন। তাদের ভোটে একজন চেয়ারম্যান, আট জন সাধারণ সদস্য এবং তিন জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হবেন। ভোটাররা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোট দেবেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক