০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সুনামগঞ্জের গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা, ‘অশুভ ইঙ্গিত’

“তবে এই সিদ্ধান্ত মুসলিমদের জন্য কার্যকর। হিন্দু সস্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।”

সুনামগঞ্জের গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা, ‘অশুভ ইঙ্গিত’
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের সালিশ বৈঠক।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Aug 2024, 07:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:17 AM

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একটি গ্রামে সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন সালিসকারীরা।

সালিসের সিদ্ধান্ত অমান্য করার চেষ্টা করলে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

শনিবার রাতে উপজেলার চিকসা গ্রামে এক বৈঠকের মাধ্যমে সালিসকারীরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বলে তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান। 

তিনি বলেন, “উচ্চ শব্দে গান-বাজনার কারণে মানুষের সমস্যা হয়। শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের সমস্যা হয়। তা ছাড়া শব্দ দূষণ হয় এমন কাজেরও আইনগত নিষেধাজ্ঞা আছে। এসব কারণে আমার ইউনিয়নের চিকসা গ্রামের মাতাব্বরগণ গান-বাজনা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমাকেও তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।”

এটি ‘সুন্দর উদ্যোগ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের পর গ্রামবাসীরও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।”

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল হক বলেন, “আমাদের গ্রাম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট হলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও বসবাস করে। অনেক মানুষ বিয়ে, জন্মদিন, খতনার অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সে উচ্চশব্দে গান-বাজনা করে। এতে হার্টের রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের সমস্যা হয়। এসব কারণে গ্রামের মাতব্বররা সর্বসম্মতিক্রমে গান-বাজনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

“কেউ এই সিদ্ধান্ত না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত মুসলিমদের জন্য কার্যকর। হিন্দু সস্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।”

চিকসা গ্রামের বাসিন্দা উমেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় পুরকায়স্থ বলেন, “আমি সালিসে ছিলাম না। তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এখন থেকে বিয়ে, জন্মদিন, খতনাসহ সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান বাজনা নিষিদ্ধ। 

“তবে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের বেলায় এ সিদ্ধান্ত নয় বলেও জেনেছি।”

বিষয়টিকে ‘সহজভাবে’ দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। 

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ঋদ্ধি হচ্ছে মূল উপাদান। এজন্য ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি ভূখণ্ডের সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর চর্চা খুব জরুরি।” 

গান-বাজনা নিষিদ্ধের বিষয়টিকে ‘অশুভ ইঙ্গিত’ মন্তব্য করে অমিত বলেন, “এটা ঘোলা জলে মাছ শিকারের চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জ খেলাঘর আসরের সভাপতি বিজন সেনরায় বলেন, “হঠাৎ করে তাহিরপুরের গ্রামে এমন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নানা প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে। এটাকে সহজ ভাবার সুযোগ নেই।”

তাহিরপুর থানার ওসি এস এম মাইনুল বলেন, “আমিও গান-বাজনা বন্ধের বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ লিখিতভাবে কিছু জানায়নি।”