১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

নরসিংদীতে বেহাল সেতুতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট-ভোগান্তি

“এই সেতুর খানাখন্দে চাকা পড়লে গাড়ি আর টেনে তোলা যায় না।”

নরসিংদী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 12:51 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় একটি সেতুর বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও চালকেরা। এতে এক ঘণ্টার পথ পার হতে সময় লাগছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।

চালকরা বলছেন, উপজেলা অংশের বারৈচা-খামারের চর সেতুর উপরি ভাগের পিচ ও কংক্রিট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পাশাপাশি কোনো যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

শিগগিরই সেতু সংস্কারের কথা বলেছেন নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বি।

যাত্রী ও পরিবহন চালকরা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা-খামারের চর সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ হাজারো যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে তদারকি ও স্থায়ী সংস্কারের অভাবে সেতুটির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ভাঙা ও গর্তের কারণে যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে সেতু পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের অভিযোগ, সেতুর খানাখন্দের কারণে কোনো গাড়ি বিকল হয়ে পড়লে পুরো মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে শত শত যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজটে আটকে থাকতে হয়।

কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় অসুস্থ রোগী ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি বাড়ছে। রাতের আঁধারে গর্তগুলো ঠিকমত দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

ভ্যানচালক মো. শফিকুল মিয়া বলেন, সেতুটি ভাঙার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। সবজি নিয়ে বাজারে যেতে প্রচুর সময় লাগে। মহাসড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

ট্রাকচালক চন্দন মিয়া বলেন, “আমরা ভারী মাল নিয়ে চলি। এই সেতুর খানাখন্দে চাকা পড়লে গাড়ি আর টেনে তোলা যায় না। মাঝেমধ্যে এক্সেল ভেঙে গাড়ি রাস্তার ওপরেই আটকে থাকে। তখন পেছনে যানজট লেগে যায়। এক ঘণ্টার পথ পার হতে চার-পাঁচ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।”

বাসচালক সোহাগ মিয়া বলেন, “ঢাকা-সিলেট রোডে বারৈচা অংশে গাড়ি চালানো এখন আতঙ্কের নাম। বারৈচা-খামারের চর সংযোগ সেতুতে গেলেই ভয় লাগে। সেতুর ওপর এমন বড় বড় গর্ত যে গাড়ি সাবধানে না চালালে স্প্রিংয়ের পাত ভেঙে যায় বা টায়ার ফেটে যায়। গাড়ি বিকল হয়ে ভৈরব থেকে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।”

প্রতিনিয়ত এই যানজটের প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষকদের ওপরও। 

হোসেন নগর গ্রামের কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, “প্রায়ই সকালে খামারের চর মোড়ে যানজট লেগে থাকে। আমরা সবজি নিয়ে সঠিক সময়ে বাজারে যেতে পারি না।”

মুফতি তরিকুল ইসলাম গোলাপ বলেন, “রোববার রাতে আমি ওয়াজ মাহফিল শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত ৩টা বাজে, দেখি রাস্তায় যানজট। শুধু যে ব্রিজে খানাখন্দ, তা না- গাড়ির চালকরাও এই যানজট সৃষ্টির পেছনে দায়ী।”

ভৈরব হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী বলেন, “দুই দিন আগেও একটি ট্রাক ফেঁসে গিয়েছিল এই ব্রিজে। আমিসহ আমার ফোর্স সারারাত চেষ্টা করে যান চলাচল স্বাভাবিক করি। পর দিন ব্রিজের কিছু খানাখন্দ সমান করা হয়, আমরা সেখানে ছিলাম। তবে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিকল্প একটি ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।”

স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত সেতুটির স্থায়ী সংস্কার করতে হবে। 

একই সঙ্গে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনা ও যানজট এড়াতে বিকল্প সেতু নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা ই রাব্বি বলেন, “বৃষ্টির জন্য বিটুমিনের কাজটা করতে পারিনি, প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই করে দেব। আমি সেতুটি দেখে এসেছি।”