Published : 24 Jun 2026, 08:22 PM
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক এক ক্বারিকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার বিচার দাবিতে ভুক্তভোগীর ছেলের দেওয়া ফেইসবুক পোস্টে বিষয়টি জানাজানি হলে একজনকে আটক করে পুলিশ।
রোববার উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের কালিবাজাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান।
আহত ক্বারি আবু রায়হান (৬৪) বাবা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ঢাকার লালবাগের জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়ার সাবেক শিক্ষক ও বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান ক্বারি।
এ ঘটনায় আবু রায়হানের ছেলে কাউসার জামিল বাদী হয়ে মোশারফ হোসেন (৪২), মাহমুদুর রহমান (৫০), তাসলিম আহমেদকে (৪৬) আসামি করেন। তাদের মধ্যে মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আসামিদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান দেওখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদের দায়িত্বে আছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আবু রায়হানের সঙ্গে তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই মোশারফ হোসেন, মাহমুদুর রহমান, তাসলিম আহমেদের বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। রোববার আবু রায়হান সেই সীমানায় বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষ জায়গাটি নিজেদের দাবি করেন।
এ নিয়ে বাগবিতণ্ডর এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আবু রায়হানকে মারধর করেন। এতে তার বাম উরুর হাড়ের উপরের অংশে ফেটে যায়। ঘটনার দুদিন পর মঙ্গলবার আবু রায়হানের প্রবাসী ছেলে ইফতেখার জামিল হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে ফেইসবুকে ঘটনার বিচার চেয়ে পোস্ট দেন। পরে পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়।
ইফতেখার লেখেন, “আমার বাবার ওপর গ্রামের গুন্ডারা আক্রমণ করেছে। তার রানের হাড্ডি ভেঙে ফেলছে। গুন্ডারা জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত, একজন রোকনও আছেন। স্থানীয় জামাতের এমপিকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি, সময় ক্ষেপণ করছেন।
“গুন্ডারা এখনো আমাদের বাড়ির সামনে ঘুরছে, আমার চাচার ওপর হামলা করার চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই, আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমার গ্রাম ফুলবাড়িয়া, কালিবাজাইল, ময়মনসিংহ- অপরাধীদের নাম: মুশারফ ও আলম।”
ইফতেখারের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ হলেও আক্রমণকারীদের দলীয় পরিচয় রয়েছে। তারা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনীতির প্রভাবে তার বাবাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তার বাবা বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে স্থানীয় জামায়াতের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান আহত আবু রায়হানের লালবাগের বাসায় যান। সেখানে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
মারধরের ঘটনায় আবু রায়হানের ছেলে কাউসার মামলা করলে রাতেই অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন বলেন, “ঘটনা ফেইসবুকে ভাইরাল হলে আমার দৃষ্টিগোচর হয়। তাৎক্ষণিক ইফতেখার জামিলের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই।
“তবে উনার ছেলে ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, যে আমার সাথে উনার কথা হয়েছে, আমি কোনো ব্যবস্থা নেইনি- এ কথাটি সত্য নয়।”
পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক তকমা দেওয়াটা দুঃখজনক; অভিযুক্ত যেই হোক তাকে শাস্তি পেতে হবে বলে জানান জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।
ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি আমাদেরকে না জানালেও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। পরে সংসদ সদস্য বিষয়টি জানালে অভিযোগকারীকে পাঠাতে বলি। অভিযোগকারী এসে ঘটনা বললে একজনকে আটক এবং থানায় মামলা নেওয়া হয়। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”