Published : 25 Jun 2026, 06:18 PM
ভারত থেকে জোর করে মানুষজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ঠেকাতে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও ‘বলিষ্ঠ’ কূটনৈতিক উদ্যোগে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষাবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।
‘সীমান্তে পুশ ইন: বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নীতিগত বিকল্প’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব মতামত উঠে আসে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) ও কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার যৌথভাবে বুধবার এ ওয়েবিনার আয়োজন করে।
ওয়েবিনারের সঞ্চালক ছিলেন সিপিএস পরিচালক অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন বলেন, পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি।
ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ বলেন, “রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত নানা বয়ান বিদ্বেষকে উসকে দিতে পারে, যার শিকার হন দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশের অস্তিত্বগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।”
তিনি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কূটনীতির পেছনে সামরিক সক্ষমতা থাকলে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে দরকষাকষি করতে পারবে।”
ভারতে ২ কোটি অবৈধ বাংলাদেশি থাকার দাবিকে ভারতীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে মন্তব্য করেন ‘দ্য ডেল্টাগ্রামের’ এর নির্বাহী সম্পাদক শাহেদুল আনাম খান।
তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচিত বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, ট্রানজিট এবং যোগাযোগ সুবিধাকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা।”
ওয়েবিনারে অন্যদের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ বক্তব্য দেন।