Published : 04 May 2026, 08:50 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় স্বামীর নির্যাতনে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি মো. লাইছুর রহমান বলেন, “ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
নিহত গৃহবধূর নাম আরজিনা খাতুন (২৬)। তার বাবার করা হত্যা মামলার পর স্বামী মনির হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, রোববার সন্ধ্যায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে মনির হোসেন তার স্ত্রী আরজিনাকে মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন।
পরে স্থানীয় শালবাহন বাজারের পল্লী চিকিৎসক মো. আশরাফুলকে ডেকে আনা হয়। তিনি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর আরজিনাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে রংপুর নেওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা জালাল উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে মনির হোসেনের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য লেগেই থাকত।
তিনি বলেন, ঘটনার রাতে মনিরের বাবা মো. শাহাজালাল মিস্ত্রি মোবাইল ফোনে জানায় মেয়ে অসুস্থ। তাকে চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হাসাপাতালে মাইক্রোবাসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনা শুনে তিনি জামাতা মনির হোসেনে কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পান। পরে মাইক্রোবাসের চালক মো. মুসা মিয়ার মোবাইল নম্বর জোগাড় করে তাকে ফোনে করেন। তখন চালক জানান, আরজিনা মারা গেছেন।
পরে জালাল উদ্দীন, তার স্ত্রী, বড় মেয়ে জামিনা খাতুন ও জামাই মো. মিন্টুকে নিয়ে মনির হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা আরজিনার লাশ দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।