কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে কান ধরে সাতবার উঠবস করিয়ে মীমাংসা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সালিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে মামলা করার কথা জানিয়েছে কিশোরীর পরিবার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে তরুণকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে সালিশের এই বিচার মানেনি কিশোরীর পরিবার।
সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান নাসিরনগর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম।
কিশোরীর ওই চাচাতো ভাই একজন ব্যবসায়ী; তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান ওই তরুণ। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বিষয়টি কাউকে জানালে কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরে কিশোরী বিষয়টি তার বড় বোনকে জানায়। রোববার সকালে কিশোরীর বড় ভাই ওই তরুণকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই তরুণ তাকে মারধর করেন এবং মামলা করলে খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
পরে কিশোরীর পরিবার বিষয়টি গ্রামের মাতব্বরদের জানায়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সংরক্ষিত নারী সদস্যের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। সেখানে ওই তরুণকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
কিন্তু সালিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কিশোরীর পরিবার। পরে তারা কিশোরীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পুলিশের পরামর্শে সেখান থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের নার্স খালেদা আক্তার বলেন, “কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
কিশোরীর বড় ভাই বলেন, “বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বরদের জানালে তারা ওই তরুণকে সাতবার উঠবস করিয়েই ঘটনা ধামাচাপা দেন। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই এবং রায় প্রত্যাখান করেছি। বোনকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। এ ঘটনায় আমি মামলা করব। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
সালিশের পর থেকে ওই তরুণের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য বলেন, “এটা দশে বইয়্যা বিচার করছে। আমি না, দশে শেষ করছে। আর ধর্ষণের ঘটনা তো আমি চোখে দেখিনি। কইতারতাম না, আল্লাহ জানে। আমি দেখছিও না, আমি সাক্ষীও না।”
ওসি মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা করতে কিশোরীর পরিবারকে বলা হয়েছে। ওই তরুণকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
