Published : 01 May 2026, 08:00 PM
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ তিন শ্রমিকের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। অন্যজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে একজন এবং শুক্রবার দুপুর অন্যজন মারা যান বলে জানিয়েছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল আমিন।
এর আগে বুধবার সকালে উপজেলার আমীর শার্টস লিমিটেড পোশাক কারখানায় বৈদ্যুতিক সুইচ চালু করার সময় তারা দগ্ধ হন।
নিহতরা হলেন- উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সারপটি গ্রামের প্রয়াত মহসীন ভূঁইয়ার ছেলে একরাম হোসেন (৩৫) এবং পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী কাজীবাড়ির বাসিন্দা সাহাদৎ হোসেন (৫০)।
একরাম কারখানায় বয়লার অপারেটর (ইলেকট্রিশিয়ান) এবং সাজ্জাদ নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
একই ঘটনায় আহত আরেক শ্রমিক ওয়েল্ডার রবিউল হোসেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন।
আমীর শার্টস লিমিটেড গার্মেন্টসের জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল অফিসার একরামুল হক বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে বয়লার অপারেটর একরাম গার্মেন্টসের বিদ্যুতের প্রধান সুইচ চালু করেন। এ সময় হঠাৎ কারখানার বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট-সার্কিট ঘটে। এতে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হলে সাজ্জাদ, একরাম এবং রবিউল আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপর সহকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠায় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
একরামুল হক বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার একজন এবং শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে অন্য মারা যান। কোম্পানির রুলস এবং বিজিএমইএ-এর নিয়ম অনুযায়ী হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
এর বাইরে কোম্পানির পক্ষ থেকে নিহত ও আহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের পড়ালেখার দায়িত্বসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ইউএনও নুরুল আমিন বলেন, হতাহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।