Published : 31 Mar 2026, 01:42 PM
সারাদেশের মতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও জ্বালানি তেল সংকটের প্রভাব পড়েছে। এতে বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
লঞ্চ চলাচল বন্ধ হলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়বেন জেলার ছয়টি উপজেলার মানুষ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ- চলাচল পরিবহণ সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, “আমাদের মঙ্গলবার পর্যন্ত লঞ্চ চালানোর মতো তেল রয়েছে। এর পর থেকে যদি তেল না পাই তাহলে বুধবার থেকে লঞ্চগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।”
রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির তথ্য মতে, রাঙামাটি জেলা শহরের সঙ্গে ছয়টি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচর উপজেলায় নৌ পথে প্রায় ৩০-৩৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে। এ সব লঞ্চে দৈনিক প্রায় এক হাজার থেকে বারোশ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়।
রাঙামাটি রিজার্ভ বাজার লঞ্চ ঘাটের লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে বলেন, “আমরা খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছি। আমাদের এক-দুই দিনের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি খুব খারাপ। তেল না পেলে তো লঞ্চ চলানো যাবে না। লঞ্চ চলাচল করতে না পারলে যাত্রীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়বে৷ ”

জুরাছড়ি উপজেলার বাসিন্দা সুরেশ চাকমা বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে হ্রদে পানি কমে গেলে এমনিতেই নৌ-পথে চলাচল করতে অসুবিধা হয়। এখন আবার তেল সংকটে যদি লঞ্চ চলাচল বন্ধ হলে আমাদের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যাবে।
“বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন ও জরুরি অফিসের কাজগুলো জেলা শহরে গিয়ে করতে কষ্ট হয়ে পড়বে।”
অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল পরিবহণ সংস্থা রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন সেলিম বলেন, “ঈদের আগে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ঈদের পর থেকে আমাদের যে চাহিদা সে অনুযায়ী পাম্প থেকে তেল পাচ্ছি না।
“আমরা রিজার্ভ বাজারের মেসার্স অনুকূল এন্টারপ্রাইজ থেকে তেল সরবরাহ করতাম এখন তারা তেল সরবরাহ করতে পারবে না বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন দিয়েছি। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ চট্টগ্রাম উপ-পরিচালকের নিকটও অনুলিপি পাঠিয়েছি।”
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখতেছি। লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, এটা কিভাবে সমাধান করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”