Published : 19 Nov 2025, 10:19 PM
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলেকে হত্যা ও তার স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবকের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া নিয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশ-আরএমপি কমিশনার আদালতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বুধবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান রাজশাহী মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫ এ হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আলী আশরাফ মাসুম।
এর আগে ১৩ নভেম্বর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের বাসায় ঢুকে তার ছেলে তাওসিফ রহমানকে (১৭) হত্যা করা হয়। জখম করা হয় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লিসীকেও (৪৪)। ঘটনার সঙ্গে জড়িত লিমন মিয়াকে (৩৪) হাসপাতালে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
সেখানে থাকা অবস্থায় লিমন ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ করে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন; যার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ালে আদালতের নজরে আসে। এ নিয়ে একটি বিবিধ মামলা করে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ১৫ নভেম্বর পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ানকে তলব করে আদালত।
পিপি আলী আশরাফ মাসুম বলেন, সকালে একটি প্রাইভেটকারে চড়ে পুলিশ কমিশনার সাদাপোশাকে আদালতে যান। কাঠগড়ায় প্রায় ১৫ মিনিট ছিলেন তিনি। এ সময় তার আইনজীবী জমসেদ আলী আদালতকে লিখিতভাবে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন এবং পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে করা বিবিধ মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।
এ সময় আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান আবেদন গ্রহণ করে আদেশ দেওয়ার জন্য রাখেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখ ১ ডিসেম্বর। পুলিশ কমিশনারের আবেদনের ব্যাপারে আদালত সেদিন আদেশ দিতে পারেন।
পুলিশ কমিশনার ব্যাখ্যার বরাতে পিপি আলী আশরাফ বলেন, “আসামি লিমন হাসপাতালে আটকের পর সেখানে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। সেই সুযোগে লিমন ক্যামেরার সামনে কথা বলেন।
“সেই সময় দায়িত্বে অবহেলার জন্য চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলেও আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানান আরএমপি কমিশনার।”
আরও পড়ুন
বিচারকপুত্র হত্যা: আসামি বক্তব্য দেওয়ায় চার পুলিশ বরখাস্ত
বিচারকপুত্র হত্যা: আসামি লিমন পাঁচ দিনের রিমান্ডে
বিচারকপুত্র হত্যা: রাজশাহীর পুলিশ কমিশনারকে আদালতে তলব
বিচারকের ছেলে খুন: গ্রেপ্তার লিমন চাকরি হারানোর পর ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন
রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের মৃত্যু 'অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে', বলছেন চিকিৎসক