১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিচারকের ছেলে খুন: গ্রেপ্তার লিমন চাকরি হারানোর পর ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন

রাজশাহীতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ জামালপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিচারকের ছেলে খুন: গ্রেপ্তার লিমন চাকরি হারানোর পর ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন
হত্যার শিকার রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Nov 2025, 11:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:07 PM

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক সেনাবাহিনীর সৈনিক পদ থেকে চাকরি হারানোর পর ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে এজাহারে সই করে ১৬ বছর বয়সি ছেলের লাশ নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন আব্দুর রহমান। পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, মামলায় একমাত্র আসামি ৩৪ বছর বয়সি লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি পুলিশের হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুস্থ হলে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

গাজিউর রহমান বলেন, “গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামের এইচ এম সোলাইমান শহীদের ছেলে লিমন সেনাবাহিনীর সাবেক সৈনিক। ২০১৮ সালে চাকরি হারানোর পর ‘নেশাগ্রস্ত’ হয়ে পড়েন তিনি। কয়েক বছর আগে বিয়ে করলেও সংসার ভেঙে যায়। 

“বিচারক আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীর সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল এবং তার কাছ থেকে টাকা নিতেন লিমন। টাকা বন্ধ হয়ে গেলে ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দিতেন। এ ঘটনায় তাসমিন ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।”

তিনি বলেন, আব্দুর রহমান এক বছর আগে রাজশাহীতে শ্রম আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পান। অক্টোবরে তাকে মহানগর দায়রা জজ করা হয়। তিনি নগরের ডাবতলা এলাকায় স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে তাওসিফকে নিয়ে থাকতেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় লিমন ওই বাসায় গিয়ে তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। বাধা দিতে গিয়ে আহত হন তাসমিন নাহারও। ধস্তাধস্তিতে লিমন নিজেও আহত হন। ভবনের বাসিন্দারা তিনজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে তাওসিফকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কফিল উদ্দিন বলেন, “তাওসিফের ডান পায়ে দুটি এবং বাম পায়ে একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তনালি কেটে যায়। অতিরিক্ত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়; যা তার মৃত্যুর কারণ। 

“এ ছাড়া গলায় পাওয়া কালশিরা দাগ, নরম কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের কারণে হতে পারে, যদিও এটি মৃত্যুর প্রধান কারণ নয়।”

ময়নাতদন্ত শেষে বিচারক আব্দুর রহমান মর্গে ঢুকে ছেলের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা মৃতদেহের গোসল করিয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে পাঠান। 

নিহত তাওসিফ রাজশাহী গভমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আরও পড়ুন:

রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের মৃত্যু 'অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে', বলছেন চিকিৎসক

রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে খুন