Published : 14 Nov 2025, 04:13 PM
রাজশাহী নগরীর ডাবতলা এলাকায় মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনের মৃত্যু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে বলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ দুই সদস্যের একটি চিকিৎসক দল মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ফরেনসিক বিভাগের প্রধান কফিল উদ্দিন বলেন, “তাওসিফের দেহে পাঁচটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে; যার মধ্যে তিনটি গভীর। রক্ত নালি কেটে গেছে, ডান পায়ে দুটি ও বাম পাশে একটি। ফলে অতিরিক্ত রক্তেক্ষরণে তাওসিফের মৃত্যু হয়েছে।”
এর আগে বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে তাওসিফের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। সেখানে কফিল উদ্দিন সঙ্গে ছিলেন ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. সারমিন সোহবান কাবেরি। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ মর্গ থেকে বের করা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমান উপস্থিত থেকে ছেলে তাওসিফের লাশ গ্রহণ করেন। পরে তাওসিফকে জামালপুরের সরিসাবাড়ির চকপাড়া গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
কফিল উদ্দিন বলেন, ‘তাওসিফের গলায় যে দাগ আছে সেটি নরম কাপড়ের। সেটি গভীর নয়। ওই দাগ মৃত্যুর কারণ না।”
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ডাবতলার বাসায় ঢুকে হামলা চালায় এক ব্যক্তি। এতে তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বিচারকের স্ত্রী।
নগরীর ডাবতলা এলাকার ‘স্পার্ক ভিউ’ নামের দশতলা ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন বিচারক। নিহত ১৬ বছর বয়সী সুমন নবম শ্রেণিতে পড়ত।
রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে খুন
রাজপাড়া থনার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “বিচারকপুত্র তাওসিফকে হত্যা ও তার মাকে ছুরিকাঘাতে আহতের ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
“এ ঘটনার একমাত্র অভিযুক্ত লিমনকে হাসপাতালে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেছে।”
আটক লিমন মিয়ার বরাতে ওসি বলেন, লিমন নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তার বাবার নাম এইচ এম সুলাইমান; তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
বর্তমানে লিমন ব্যবসা করেন এবং স্থানীয়ভাবে জিয়া সাইবার ফোর্সের গাইবান্ধা জেলা কমিটির সদস্য বলে দাবি করেছেন বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার। এর এক সপ্তাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিচারকের ভাই পরিচয় দিয়ে বাসায় ঢুকে মা-ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে লিমন।
“এতে ছেলে তাওসিফের মৃত্যু হয়। আর হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মা তাসমিন নাহার। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।”