Published : 21 Apr 2026, 08:58 PM
বন্যা ও জলাবদ্ধতার শঙ্কায় হাওরে বোরো ধান ৮০ ভাগ পাকলেই কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে পাউবো।
বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরুর মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কৃষকদের প্রতি এই অনুরোধ করা হয়েছে।
বেশ কয়েকদিন ধরে হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কোথাও কোথাও ফসলরক্ষা বাঁধের উপর পানির চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়েছে।
যারা কিছুটা আগাম বোরো ধান বপন করেছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এরই মধ্যে ফসল কাটা শুরু করেছেন। তবে অধিকাংশ জমির ধানই এখনো পরিপূর্ণিভাবে পাকেনি। কৃষকদের প্রত্যাশা, হয়ত বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুরোদমে হাওরে ‘দাওয়ামারি’ শুরু হয়ে যাবে।
এর মধ্যেই পাউবোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ বিভিন্ন নদীর উজান এলাকায় বৃষ্টিপাত বেড়েছে। এতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে এবং আগামী কয়েকদিনে তা বাড়তে পারে।
এ অবস্থায় যেকোনো সময় আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি হাওরের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে যেসব জমির প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেসব জমির ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত হাওরের ২১ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব হাওরের ধান কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগাম সতর্কতা হিসেবে কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাওরের নিচু কিছু এলাকায় এরই মধ্যে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যা ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।