অক্সফোর্ড মিশনে লুসি হল্ট আর শেখ রেহানার ‘অন্যরকম সময়’
শেখ রেহানার আবদারে কাজী নজরুল ইসলামের ‘নাচ ময়ূরী নাচরে’ গানটি শোনান লুসি হল্ট।
বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে গিয়ে বাংলাদেশ ও বৃটিশ নাগরিক লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা।
শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে শেখ রেহানা নগরীর বগুড়া রোডে অক্সফোর্ড মিশনে যান বলে জানিয়েছেন ফাদার জন।
তিনি বলেন, “প্রচুর ফুল, ফলসহ উপহার সামগ্রী নিয়ে চার্চে আসেন শেখ রেহানা। তিনি আধা ঘণ্টা চার্চে কাটিয়েছেন।”
শেখ রেহানা চার্চে গিয়ে লুসি হেলেনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় লুসি হল্ট বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে যেসব চিঠি লিখেছিলেন তা সংরক্ষণ করা উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন শেখ রেহানা। তিনি লুসি হল্টের মতো মানবিক আদর্শ সবার ধারণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
ফাদার জন বলেন, শেখ রেহানা চার্চ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি চার্চের জন্য অনুদানও দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শেখ রেহানা আগমনের খবর দুদিন আগে থেকেই জানতেন তারা। আড়ম্বরপূর্ণ কোনো আয়োজন নয়। মূলত লুসি হল্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই আসেন তিনি।
এ সময় ফাদার জন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মিশনের ফাদার ফ্রান্সিস, সিস্টার মার্গারেট, সিস্টার শেফালী, সিস্টার শিখা, চার্চের ম্যানেজার রিচার্ড রতন হালদার, লুসি হল্টকে নিয়ে প্রতিবেদন করা অপূর্ব অপু ও অপসোনিন ফার্মার প্রকল্প সমন্বয়ক সমাজসেবক রফিকুর রহমান।
রফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর সোয়া ১টার দিকে হলরুমে ঢুকেই বঙ্গবন্ধু কন্যা লুসি হল্টের কাছে গিয়ে নিজেই প্রথমে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। লুসির পাশের চেয়ারে বসে মমতা নিয়ে তার হাত ধরে কুশলাদি বিনিময় করেন।
চেয়ার থেকে উঠে সেখানে থাকা প্রত্যেকের কাছে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা পরিচিত হন এবং খোঁজ-খবর নেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বরিশালের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
লুসি হল্টকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় অক্সফোর্ড মিশন কর্তৃপক্ষ।
একপর্যায়ে শেখ রেহানা গান শোনার আবদার করেন লুসি হল্টের কাছে। তখন লুসিও গান শোনান পরম কৃতজ্ঞতা নিয়ে। কাজী নজরুল ইসলামের ‘নাচ ময়ূরী নাচরে’ গানটি শোনান তিনি। এ সময় লুসির কণ্ঠে কণ্ঠ মেলান বঙ্গবন্ধু কন্যা।
পরে অক্সফোর্ড মিশনে গির্জার ভেতরে যান শেখ রেহানা। কিছু সময় প্রভু যীশুর গির্জা ঘর ঘুরে দেখেন এবং অক্সফোর্ড মিশনের ইতিহাস শোনেন।
পরে সবার সঙ্গে ছবি তোলেন শেখ রেহানা। তিনি চার্চ থেকে বের হয়ে সার্কিট হাউজে চলে যান।
বৃটিশ নাগরিক লুসি হল্টের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জনকল্যাণকর কাজ নিয়ে ২০১৬ সালে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন আলোচনায় আসেন লুসি হল্ট।
লুসির একমাত্র দাবি ছিল, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছায়। লুসি হল্টের প্রত্যাশা অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রথমে ভিসা ফি মওকুফ পাসপোর্ট হস্তান্তর এবং পরে গণভবনে নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
