অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক রেহানাকে ‘হত্যার পর মাটিচাপা’: অভিযোগপত্রে নারাজি দেবেন মা
অভিযোগপত্রে কয়েকজনের ‘নাম না থাকায়’ এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আইরিন আক্তার।
সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক রেহানা পারভীনকে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তার মা আইরিন আক্তার।
অভিযোগপত্রে কয়েকজনের ‘নাম না থাকায়’ এর বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালতকে বিষয়টি জানান আইরিন আক্তার। তার পক্ষে আইনজীবী আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিলের জন্য সময় চেয়েছেন।
আদালত আগামী ১৮ নভেম্বর নারাজির বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই রুহুল আমিন জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা। তার স্বামী আওলাদ হোসাইন দেশে আসেন ২৯ জুন। ৩ জুলাই মায়ের সঙ্গে রেহানার শেষ কথা হয়। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রেহানার মা আইরিন আক্তার প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম এবং আত্মীয় আমজাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে মামলা দায়েরের আগেই আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।
১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ায় পাপিয়ার বাড়ির সামনে মাটির নিচ থেকে রেহানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অপহরণের মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় রূপান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান।
অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন।
মায়ের অভিযোগ
মামলার এজাহারে আইরিন আক্তার বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে রেহানা ও আওলাদের বিয়ে হয়। তাদের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
রেহানা বাংলাদেশে নিজের নামে কিছু সম্পত্তি কেনার পর আওলাদ এর বিরোধিতা করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলে আইরিনের ভাষ্য।
তিনি বলেছেন, ৩ জুলাই রেহানা ফোন করে জানান, আওলাদ, আমজাদ, পাপিয়া ও মাকসুদা তাকে মারধর করেছেন। আওলাদ তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর থেকে রেহানার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইরিন জানতে পারেন, রেহানা নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরেননি। অন্যদিকে আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।
রেহানার পরিবারের পক্ষ থেকে পাপিয়া ও মাকসুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রেহানার মেয়ে তাদের কাছে আছে বলে জানান। তবে রেহানার বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
এরপর অপহরণের মামলা করেন আইরিন। রেহানার মরদেহ উদ্ধারের পর মামলায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ যুক্ত হয়।
মামলার আসামিদের মধ্যে পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম জামিনে রয়েছেন। আমজাদ হোসাইন ও কবীর হোসাইন কারাগারে রয়েছেন। আওলাদকে অভিযোগপত্রে পলাতক দেখানো হয়েছে।
