২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

রেহানাকে হত্যার পর মাটিচাপা, ওপরে সবজির চারা: অভিযোগপত্রে রোমহর্ষক বিবরণ

এদিকে রেহানাকে খুনের তদন্ত প্রভাবিত করতে বাংলাদেশে ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে তার স্বামী আওলাদকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।

রেহানাকে হত্যার পর মাটিচাপা, ওপরে সবজির চারা: অভিযোগপত্রে রোমহর্ষক বিবরণ

রেহানা পারভীন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 12:46 AM

Updated : 28 Sep 2026, 12:46 AM

সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক রেহানা পারভীনকে হত্যার কীভাবে লাশ গুম করেছিলেন তার স্বামী আওলাদ হোসাইন ও স্বজনরা, তার রোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে।

আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যার পর আশুলিয়ায় একটি বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ওই জায়গায় লাগানো হয় সবজির চারা।

২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা। তার স্বামী আওলাদ দেশে আসেন ২৯ জুন। ৩ জুলাই রেহানার সঙ্গে তার মায়ের শেষ কথা হয়। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রেহানার মা আইরিন আক্তার প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ৮ সেপ্টেম্বর মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম এবং আত্মীয় আমজাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে মামলা হওয়ার আগেই আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ায় পাপিয়ার বাড়ির সামনে মাটির নিচ থেকে রেহানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর অপহরণের মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় রূপান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩১ অগাস্ট নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক তানভীর হাসান খান পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

আসামিরা হলেন—রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর মামলার ধার্য দিনে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ অভিযোগপত্রটি দেখেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুহুল আমিন জানান, অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য আগামী ১৯ অক্টোবর দিন রেখেছে আদালত।

Image

রেহানা পারভীন ও আওলাদ হোসাইন

‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পর হত্যার পরিকল্পনা’

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর হাসান খান বলেন, রেহানা পারভীনের নামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্পত্তি ছিল। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি পারিবারিক বিষয় নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমস্যা চলছিল।

তার ভাষ্য, অস্ট্রেলিয়ায় একই বাসায় থাকলেও রেহানা ও আওলাদ আলাদা থাকতেন। দেশে আসার পর কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এরপর রেহানাকে হত্যা করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রেহানা নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় জিডি করে। পরে পুলিশ তদন্ত করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

আওলাদ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তানভীর বলেন, “অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছু রিপোর্ট তারা আমাদের কাছে চেয়ে ই-মেইল করেছে। আমরা সেগুলো দিয়েছি। আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে সেটাও জানিয়েছি।

“সে কিন্তু অস্ট্রেলিয়ারও নাগরিক। তারপরও যদি ওই দেশ থেকে প্রস্তাব আসে, আমরা তাকে নিয়ে আসব।"

এদিকে স্ত্রী খুনের তদন্ত প্রভাবিত করতে বাংলাদেশে ঘুষ পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ৫১ বছর বয়সী আওলাদকে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ।

আওলাদ বর্তমানে ব্রিসবেন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। রেহানা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশের পুলিশের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশও তদন্ত করছে।

অভিযোগপত্রে হত্যার যে বর্ণনা

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর আওলাদের বোন পাপিয়া আক্তারের আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ার বাসায় রেহানাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই আমজাদ ও কবীর ছিলেন।

পুলিশ বলছে, আওলাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী রেহানার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে রেহানা ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পাপিয়া তাকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন।

এরপর আমজাদ রেহানার দুই পা এবং কবীর তার দুই হাত চেপে ধরেন। আওলাদ তার পেটের ওপর বসে মুখে বালিশ চেপে ধরেন। এতে রেহানার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

পরে রাতেই আওলাদ, আমজাদ, পাপিয়া ও কবীর মরদেহ গোপন করার জন্য পাপিয়ার বাড়ির সামনের সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওই জায়গায় পরে বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা লাগানো হয়।

Image

আওলাদ হোসাইন

আসামিদের জবানবন্দিতে যা এসেছে

এ মামলার আসামি পাপিয়া, আমজাদ ও কবীর আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের প্রত্যেকের ভূমিকার কথা এসেছে। সেসব জবানবন্দিও অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

পাপিয়া তার জবানবন্দিতে বলেন, দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ২০২৪ সালের শুরুতে তার ভাই আওলাদ অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোন করে তার খোঁজখবর নেন। পরে বাংলাদেশে এসে তার বাসায় যাওয়ার কথা বলেন।

পাপিয়ার ভাষ্য, ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর আওলাদ ও রেহানা তার বাড়িতে যান। তিনি রান্নাঘরে যাওয়ার পর আমজাদ ও কবীর সেখানে আসেন। পরে ঘর থেকে চিৎকার শুনে তিনি তাদের ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন।

পাপিয়া বলেন, একপর্যায়ে রেহানা মাটিতে পড়ে যান। আমজাদ ও কবীর তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। কবীর তার দুই হাত এবং আমজাদ দুই পা ধরে রাখেন। আওলাদ তখন রেহানার পেটের ওপর বসে তার মুখে বালিশ চেপে ধরেন।

জবানবন্দিতে পাপিয়া দাবি করেছেন, তিনি আওলাদকে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও পারেননি।

রেহানার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ গুম করা হয়। পরে পুলিশ পাপিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করে।

Image

রেহানা পারভীন

পাপিয়ার আইনজীবী শহিদুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ড তার মক্কেলের বাড়িতে ঘটলেও তিনি রেহানাকে ‘বাঁচানোর চেষ্টা’ করেছিলেন। পরে ঘটনা গোপন করার বিষয়টি তার বিরুদ্ধে এসেছে।

এদিকে আসামি আমজাদ হোসাইন তার জবানবন্দিতে বলেছেন, আওলাদ তাকে পাপিয়ার বাসায় যেতে বলেছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি আওলাদ ও কবীরকে দেখতে পান। রেহানা ও আওলাদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। তার ভাষ্য, তিনি সেখানে মাটি কেটে জায়গা ভরাট করেন।

কবীর তার জবানবন্দিতে বলেন, আওলাদের সঙ্গে রেহানার সম্পর্ক ভালো ছিল না। আওলাদ ঝগড়ার একপর্যায়ে রেহানাকে মেঝেতে ফেলে দেন। আওলাদের কথায় তিনি রেহানার দুই হাত এবং আমজাদ দুই পা ধরে রাখেন।

পরে আওলাদ বালিশ চাপা দিয়ে রেহানাকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছেন কবীর।

মেয়ের জবানবন্দিতেও দাম্পত্য কলহের কথা

মামলায় রেহানা ও আওলাদের এক মেয়েকেও সাক্ষী করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে অস্ট্রেলিয়ায় তার বাবা-মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হওয়ার কথা জানিয়েছে।

জবানবন্দিতে মেয়েটি বলেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে সে মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে আসে। ঈদের পর তারা নবাবগঞ্জে মাকসুদা ফুফুর বাসায় যায়। তখন তার মা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মেয়েটির ভাষ্য, সেখানে থাকার সময় তার মায়ের রক্তপাত শুরু হয়। সে বাবাকে ডাকতে বললেও ফুফুর সঙ্গে তার মায়ের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সে ও তার মা রিকশায় করে নবাবগঞ্জ হাসপাতালে যায়।

জবানবন্দিতে মেয়েটি বলেছে, পরে তার মা-বাবা পাপিয়ার বাসায় যান। সেখান থেকে মা ফোনে তাকে বলেছিলেন, তার কিছু হলে তার বাবাকে দায়ী করতে।

অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজ ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে রেহানার পরিবারের বক্তব্যের বরাতে জানিয়েছিল, ৩ জুলাই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তার গর্ভপাত হয়েছিল।

Image

আওলাদ হোসাইন

মায়ের অভিযোগ

মামলার এজাহারে আইরিন আক্তার বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে রেহানা ও আওলাদের বিয়ে হয়। তাদের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে এবং তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

রেহানা বাংলাদেশে নিজের নামে কিছু সম্পত্তি কেনার পর আওলাদ এর বিরোধিতা করতেন এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত বলে বাদীর ভাষ্য।

আইরিন আক্তার বলেন, ৩ জুলাই রেহানা তাকে ফোন করে জানান, আওলাদ, আমজাদ, পাপিয়া ও মাকসুদা তাকে মারধর করেছেন এবং আওলাদ তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইরিন জানতে পারেন, রেহানা নির্ধারিত সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফেরেননি। অন্যদিকে আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান।

রেহানার পরিবারের পক্ষ থেকে পাপিয়া ও মাকসুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা রেহানার মেয়ে তাদের কাছে আছে বলে জানান। কিন্তু রেহানার বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

এরপর অপহরণের মামলা করেন আইরিন। মরদেহ উদ্ধারের পর মামলায় হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ যুক্ত হয়।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম জামিনে রয়েছেন। আমজাদ হোসাইন ও কবীর হোসাইন কারাগারে রয়েছেন। আওলাদকে অভিযোগপত্রে পলাতক দেখানো হয়েছে।

Image

রেহানা পারভীন ও আওলাদ হোসাইন

অস্ট্রেলিয়ায় আওলাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

রেহানা হত্যার তদন্তের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াতেও আওলাদকে ঘিরে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজের ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫১ বছর বয়সী আওলাদকে বাংলাদেশে পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ায় ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)।

পুলিশ অভিযোগ করেছে, দুই বছর ধরে বিভিন্ন কিস্তিতে তিনি বাংলাদেশে পরিচিত ব্যক্তিদের ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন, যাতে রেহানার মৃত্যুর তদন্তে তার নাম পুলিশি নথি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বা তদন্ত প্রভাবিত করা যায়।

তবে অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ বলেছে, এসব অর্থ বাংলাদেশের কোনো কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছিল বা তদন্তকে প্রভাবিত করেছিল—এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জয় বলেন, “বাংলাদেশি পুলিশের কাছ থেকে আমরা যে সহযোগিতা পাচ্ছি, তার মাত্রায় কোনো পরিবর্তন আমরা দেখিনি। বাংলাদেশের কাছ থেকে যে চমৎকার সহযোগিতা পেয়েছি, তাতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।”

আওলাদের আইনজীবী টরিক ডিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন তার মক্কেল ঘুষের অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

২৩ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তার জামিনের আবেদন আগামী মাস পর্যন্ত মুলতবি হয়। ফলে তিনি আপাতত অস্ট্রেলিয়া পুলিশের হেফাজতেই রয়েছেন।

এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে আওলাদের বিরুদ্ধে রেহানার মৃত্যু সনদ জাল করার অভিযোগেও একটি মামলা হয় অস্ট্রেলিয়ায়।

অভিযোগ ছিল, ওই নথি ব্যবহার করে কুইন্সল্যান্ডে তাদের যৌথ মালিকানাধীন তিনটি সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেন আওলাদ।

তবে তার আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, নথিটি জাল নয় এবং এটি বাংলাদেশের একটি বৈধ সরকারি নথি।

রেহানার মৃত্যুর ঘটনা অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করছে। ২০২৫ সালে এএফপি জানিয়েছিল, বাংলাদেশি পুলিশের সহযোগিতায় তাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে তদন্ত করেছেন।