টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ, তবু শঙ্কায় মানুষ

এই বাঁধের ক্ষতি হলে কয়েক হাজার একর ফসলি জমির ক্ষতি হবে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 04:13 PM
Updated : 12 Sept 2022, 04:13 PM

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা নদীর সঙ্গে যুক্ত এলেংজানী নদীর পাড়ঘেঁষে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এক সপ্তাহ ধরে কয়েকটি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে হাতিয়া এলাকায় বাঁধটি নির্মাণ করছেন বলে উপজেলার দশকিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফাহিমা আক্তার জানান।

তিনি বলেন, যমুনা নদীর পানি আবারও কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলেংজানী নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে হাতিয়া এলাকায় এলেংজানী নদীর পাড়ঘেঁষা মাটির রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন ঠেকাতে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করেছেন।

তবে এখানকার মানুষ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নিয়ে আতঙ্কে আছেন। তারা এখানে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন ইউপি সদস্য। তিনি আরও বলেন, এখানে বিপর্যয় হলে উপজেলার দশকিয়া, নারান্দিয়া, সল্লা, বাংড়া ও সহদেবপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়বে।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে আসা হাতিয়া এলাকার বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, “আমাদের আবাদি জমির ফসল রক্ষা করতে গত ৫ অগাস্ট সকাল থেকে এলাকাবাসীকে নিয়ে শত শত বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করছি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া বাঁধটি টিকিয়ে রাখা কঠিন।”

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগের বন্যায় হাতিয়া বাঁধ ভেঙে প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বাঁধটি মেরামত না করায় এবার বন্যাতে প্রথম ধাপে কয়েক গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। এখন যদি আবার প্লাবিত হয় তাহলে আশপাশের কয়েক গ্রামের কৃষকের জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।

দশকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মালেক ভূঁইয়া বলেন, “এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার বস্তা বালু ফেলে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা চলছে। আমি নিজেও ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করছি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া এখানে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া কঠিন।”

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসেইন বলেন, বাঁধের খোঁজ নিতে স্থানীয় একজন ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক