৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে বিয়ের ৭ মাসের মাথায় কিশোরী গৃহবধূকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 05:14 PM

Updated : 30 Sep 2026, 05:14 PM

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বিয়ের সাত মাসের মাথায় কিশোরী এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোররাতে উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর খিলগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ঘাটাইল থানার ওসি মোকছেদুর রহমান জানিয়েছেন।

নিহত ১৬ বছর বয়সি তামান্না ইসলাম তরী ওই গ্রামের প্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। আটক মোহাম্মদ রোমান (২০) মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের চাপারকোনা গ্রামের তুলা মিয়ার ছেলে।

পরিবারের দাবি, সাত মাস আগে পারিবারিকভাবে তরীর সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রোমান মিয়া বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

তরীর মা সাহানাজ বেগম বলেন, “আমার এক মেয়ে এক ছেলে। মেয়েটি বড়। কিছুদিন আগে মেয়ের বাবা বিদেশ থেকে এসে অনেক টাকা খরচ করে পারিবারিকভাবে রোমানের সঙ্গে তরীর বিয়ে দেন। বিয়ের সময় সাত ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোটা অঙ্কের নগদ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়।

“এর মধ্যে বিয়ের সময় মেয়েকে দেওয়া স্বর্ণ ও টাকা মোবাইলে জুয়া খেলে নষ্ট করে ফেলে রোমার। এরপর থেকে প্রায় মেয়েকে বাড়ি থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিত রোমান। আমরা আর টাকা না দিতে পারায় সে তরীকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও মারধর করত।”

তিনি বলেন, স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার শাশুড়িকে বলে বাবার বাড়িতে চলে যান তরী। মাঝখানে চার থেকে পাঁচ দিন তরীর কোনো খোঁজ-খবর না নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ শ্বশুর বাড়িতে যান রোমান।

বাড়িতে এসেই রোমান তরীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন বলে জানান সাহানাজ বেগম।

তিনি বলেন, “তরী স্বামীর সঙ্গে জামাই বাড়ি যেতে অস্বীকৃতি জানালে, আমার সামনেই তাকে কয়েক দফা মারধর করেন রোমান। পরে দুজনেই রাতের খাবার না খেয়ে বাড়ির নিচতলার বেডরুমে শুয়ে পড়ে। আমি দোতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

“মধ্যরাতে হঠাৎ মেয়ের ডাক-চিৎকার শুনে নিচে নেমে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করতে থাকি। ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পাই। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি।”

ভোররাতে তরীকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান সাহানাজ বেগম। তিনি মেয়ে হত্যার বিচার দাবি করেছেন।

দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য আবু হানিফ বলেন, “মেয়েটিকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে তার স্বামী। ঘটনার পরপরই আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়ে পুলিশকে জানাই। মেয়েটির শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিচার দাবি করেছেন তিনি।

ওসি মোকছেদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর রোমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।