‘প্রেমে বাধা দেওয়ায়’ কুমিল্লায় কিশোর খুন, ৮ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী কারাগারে

বাদীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। 

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 03:58 PM
Updated : 23 Sept 2022, 03:58 PM

নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে ‘প্রেমের সম্পর্কে বাধা দেওয়ায়’ কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় এক কিশোরকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আট দাখিল পরীক্ষার্থীকে শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস।

বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে সিয়ামকে হত্যা করা হয়। সে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চরমোহনপুর এলাকার হেলাল উদ্দিন ওরফে বাক্কা মিয়ার ছেলে। মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলো সে।   

এ ঘটনার পর মধ্যরাতে আট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন সিয়ামের বাবা হেলাল উদ্দিন। এর পরই পালিয়ে যাওয়ার সময় আট জনকে পাশের মেঘনা উপজেলা থেকে আটক করে পুলিশ।

আসামিরা মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নয়াগাঁও আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসায়।

ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত সিয়ামের এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে এক আসামির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ নিয়ে প্রায় ২০ দিন আগে ওই আসামির সঙ্গে সিয়ামের বাক-বিতণ্ডা হয়। ফোনেও তাদের ঝগড়া হয়।   

১৫ সেপ্টেম্বর দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়। এজন্য ১৩ সেপ্টেম্বর থেকেই আট আসামি গাজীপুর এলাকায় নাছির উদ্দিনের বাড়ি ভাড়া নেয়। তারা একসঙ্গে থাকে। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষ হলে চাচাতো ভাইকে আনতে যায় সিয়াম। তাকে দেখে আট আসামি মাদ্রাসার সামনের সড়কে অবস্থান নেয়।

এ সময় সিয়ামের সঙ্গে আসামিদের কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সিয়ামকে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যায় আসামিরা। এরপর এক আসামি ভাড়া করা বাসা থেকে ছুরি এনে সিয়ামের তলপেটে দুটি আঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর সিয়াম মারা যায়।

মামলার বাদী ও নিহত সিয়ামের বাবা হেলাল উদ্দিন বলেন, “ওই আট জনই এলাকায় বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত। তারা আমার ছেলেকে হত্যার জন্যই কেন্দ্রের পাশে বাসা ভাড়া নিয়েছিলো। পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে খুন করেছে। আমি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক