Published : 12 Aug 2025, 09:50 PM
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে সহিংসতায় পাঁচজন নিহতের ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে তদন্ত কমিটির সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তারিকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল গোপালগঞ্জে পৌঁছায়।
ঘটনাস্থল ঘুরে সন্ধ্যা ৭টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া কথা বলেছেন কমিটির সদস্যসচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান।
তদন্ত কমিটির সভাপতি আবু তারিক বলেন, “আমাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জিনিসটা তদন্ত করার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে বলার কিছু নেই। সব বুঝে শুনে আমরা ইনকোয়ারি করছি। অতিসত্বর তদন্ত রিপোর্ট দেব।”
দুপুরে গোপালগঞ্জে পৌঁছেই তদন্ত কমিটির সদস্যরা সদর উপজেলার উলপুর, জেলা কারাগার, এনসিপির সভাস্থলসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ২১ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহীদুর রহমান ওসমানী, ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক সরদার নুরুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে সরকার কিছু নির্ধারিত এজেন্ডা দিয়ে দিয়েছে। তদন্তে নেমে এজেন্ডাগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ধরনের সুপারিশও সরকারের কাছে করতে হবে।
“যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন, আমাদের তদন্ত কাজ শেষ হয়নি। সবার প্রাথমিক বক্তব্য নিয়েছি। আমরা আজকেও অনেকের বক্তব্য নিয়েছি। বুধবারও আমরা যত জনের পারি বক্তব্য নিব। যেহেতু বিষটি তদন্তাধীন, এটা একটা গোপনীয় প্রতিবেদন হবে। সেটা সরকার প্রকাশ করবে। আমরা কি পাচ্ছি? কি পাইনি? সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগ।”
সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে মাহাবুবুর রহমান বলেন, “আপনারা (সংবাদ কর্মী) যে কষ্ট করে এসেছেন, আমাদের কথা শুনছেন, আপনারা ইচ্ছা করলে আমাদের কিছু তথ্য দিয়ে আলামত দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

“সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আপনাদের প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক্স মিডিয়া থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। এজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা বুধবারও সারাদিন আছি। আপনারা যদি তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরা যে প্রতিবেদন দাখিল করব, সেটা আরও ভাল হবে।”
এর আগে ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার সহিংসতায় চারজন মারা যান। পরদিন রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫টি মামলায় ১৬ হাজার ১৬২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের এক হাজার ২৫২ জনের নাম এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৪ হাজার ৯১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন...
গোপালগঞ্জে সহিংসতা: ডিসির বাসভবনে হামলায় আরেকটি মামলা
গোপালগঞ্জের সহিংসতায় আরেক মামলা, আসামি সাড়ে ৫ হাজার
গোপালগঞ্জে সহিংসতা: আরেকটি হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ৩১৪
গোপালগঞ্জের চারজনের ময়নাতদন্ত না হওয়া নিয়ে হাসপাতালের ব্যাখ্যা
গোপালগঞ্জে ৪ হত্যা মামলা পুলিশের, আসামি আওয়ামী লীগের ৬ হাজার কর্মী
সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ছাড়াই গোপালগঞ্জে নিহতদের দাফন-সৎকার
গোপালগঞ্জে ৪ মামলায় আসামি তিন হাজার; গ্রেপ্তার ২৭৭