Published : 20 Jul 2025, 06:53 PM
এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চারজনের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত না হাওয়া নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাসের স্বাক্ষর করা ব্যাখ্যাটি রোববার বিকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ময়নাতদন্ত না করে লাশ হস্তান্তর করেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।”
বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে দফায় দফায় হামলার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের মধ্যে চারজন নিহত এবং অন্তত নয়জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হন।

প্রথম দিন অর্থাৎ বুধবার নিহত চারজন হলেন- শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (৩০), কোটালিপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (১৭), শহরের শানাপাড়ার সোহেল রানা (৩৫) এবং সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন।
ওই রাতেই সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের দাফন ও সংকার করা হয়।
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, প্রয়োজনীয় হলে কবর থেকে উত্তোলন করেও ময়নাতদন্ত করা যেতে পারে।
তবে দীপ্ত সাহাকে দাহ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে কী হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
গুরুতর আহত অবস্থায় বুধবার রাতেই তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একদিন বাদে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে মারা যান অটোরিকশা চালক রমজান মুন্সী। তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তার আগে শাহবাগ থানার একজন এসআই মরদেহের সুরতহাল করেন।
গোপালগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় সুমন বিশ্বাস (৩০) ও আব্বাস আলী (৩০) নামে আরও দুই গুলিবিদ্ধ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

‘মরদেহ জোর করে নিয়ে যায়’
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, বুধবার জেলায় অপ্রত্যাশিত ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্ত না করার বিষয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিহত ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনদের বক্তব্য তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ময়নাতদন্ত না করে লাশ হস্তান্তর করেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।
“প্রকৃত ঘটনা এই যে, ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর জরুরি বিভাগে প্রথম মৃতদেহটি আসে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণার পর রোগীর স্বজনদের লাশ ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষ করে লাশ নেওয়ার কথা বললে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে জোরপূর্বক লাশ নিয়ে যায়।”
জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, “পরবর্তীতে বাকি মৃতদেহগুলোর স্বজনরা ময়নাতদন্ত করাতে রাজি হয় না এবং হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে জোরপূর্বক মৃতদেহ নিয়ে যায়।”
“এই সময় উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং চারিদিকে সংঘর্ষ চলমান থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অসহায় বোধ করেন। তাছাড়া আহত লোকজনের চিকিৎসা প্রদানের জন্য ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় এবং অন্যান্য কর্মচারী আত্মনিয়োগ করায় এবং বাহিরের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সাথে যোগাযোগের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে ঘটনা পুলিশকে মোবাইল ফোনে এবং লিখিতভাবে জানানো হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, গোপালগঞ্জ নাসীর স্বাস্থ্য সেবায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ পরিবার সর্বদা আত্মনিয়োজিত। আমরা আশা করি উল্লেখিত বিবৃতির মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।”
আরও পড়ুন:
গোপালগঞ্জে ৪ হত্যা মামলা পুলিশের, আসামি আওয়ামী লীগের ৬ হাজার কর্মী
সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ছাড়াই গোপালগঞ্জে নিহতদের দাফন-সৎকার
গোপালগঞ্জে ৪ মামলায় আসামি তিন হাজার; গ্রেপ্তার ২৭৭
গোপালগঞ্জে কারফিউয়ের মেয়াদ আরো বাড়ল
রমজান রিকশা চালাতে গিয়েছিল, যাত্রীও ছিল: বলছেন ভাইয়েরা
কারফিউ শিথিলের পর গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা চলছে
গোপালগঞ্জে সকাল থেকে কারফিউ উঠছে, এরপর ফের ১৪৪ ধারা
গোপালগঞ্জে ২ বাইকে অগ্নিসংযোগ: আওয়ামী লীগের ৩৫৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা