Published : 19 Jul 2025, 03:44 PM
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও সংহিসতার ঘটনায় চলমান কারফিউ ১৪ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হলেও শহরে লোকজনের উপস্থিতি এখনো কম।
শনিবার সকাল ৬টা থেকে কারফিউ শিথিলের পর শহরের কিছু দোকানপাট খোলা থাকলেও বেচাকেনার অবস্থা ভালো নয় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। সড়কেও যানবাহন চলাচলও তেমন নেই।
কারফিউ শিথিল থাকলেও শহরে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয়রা বলেছেন, শনিবার এখানকার মার্কেট-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ কারণে স্বাভাবিক সময়েও শনিবার শহরে লোকজনের উপস্থিতি কম থাকে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারফিউ।
তাছাড়া সংঘর্ষ ও সংহিসতার ঘটনায় হওয়া বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের আতঙ্কও আছে বলছেন অনেকেই।
তবে এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শহরের নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
শহরের ইজিবাইক চালক মো. পিন্টু মোল্লা বলেন, “রাস্তায় নামছি, কিন্তু যাত্রী নেই। এমনিতেই শনিবার লোক কম থাকে, তার ওপর মনে একটা আতঙ্ক আছে।
“সাধারণত দিনে ৬০০ থেকে হাজার টাকা আয় করি। তবে গত তিন দিনে দুশ-তিনশ টাকার বেশি ভাড়া পাই নাই। অথচ ইজিবাইকের মালিককে ভাড়া বাবদ প্রতিদিন দিতে হয় ৪০০ টাকা।”
শহরের বড় বাজারের চাউল ব্যবসায়ী অনুপ সাহা (৫৪) বলেন, “তিন দিন পর দোকান খুলেছি। সকালের দিকে কিছু কেনা-বেচা হয়েছে। দুপুরের আগেই বাজার ফাঁকা হয়ে গেছে।”

ওই বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কিবরিয়া মিয়া (৪৫) বলেন, “কারফিউ ওঠায় দোকান খুলে ছিলাম। সকালে ভাল কেনা-বেচা করেছি। দুপুরে বাজারে লোক নেই। তাই বন্ধ করে বড়ি চলে যাচ্ছি।”
গত বুধবার জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ।
টানা ৫ ঘণ্টার ওই সংঘাতে নিহত হন অন্তত চারজন। পরে আহতদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে মারা যান।
সংঘাতের সময় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আটকা পড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সেদিন সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।
এ সহিংসতার প্রেক্ষাপটে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। পরে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছিল। সেই সময় শেষে কারফিউ না তুলে তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার বিরতি দিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ চলমান থাকবে।
এরপর শুক্রবার বিকালে কারফিউয়ের মেয়াদ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বাড়ানোর কথা এবং সর্বশেষ রাত ১১টার দিকে শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকার কথা জানায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কারফিউ জারি রাখা বা না রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
আগের সংবাদ -