Published : 01 Apr 2026, 12:30 PM
গোপালগঞ্জ জেলার অনেক কৃষকই ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ডিজেল সংকটে বোরো ধান ও পাট চাষের মাঠ প্রস্তুতের ভরা মৌসুমেও ব্যাহত হচ্ছে সেচ ব্যবস্থা। এতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির তথ্য মতে, জেলার ৫ উপজেলায় ৮২ হাজার ৫৯৩ হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচ মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকী জমিতে বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে।
কিন্তু ডিজেল নির্ভর সেচের জন্য চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না কৃষকরা। কখনো কখনো বেশি দামে তাদের ডিজেল কিনতে হচ্ছে। এতে বোরো চাষে খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের নখড়িরচর গ্রামের কৃষক আব্দুল হক বলেন, “এখন ধানে শীষ আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একই সাথে পাট চাষের জমি প্রস্তুত করতেও সেচের প্রয়োজন। এর মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেল পেলেও কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।
“এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আমরা আর্থিক চাপের মুখে পড়ছি। এসব কারণে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

একই উপজেলার রোড়াশী ইউনিয়নের ঘোষগাতি গ্রামের কৃষক এনামুল মোল্লা বলেন, ডিজেলের অভাবে আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। ধান ক্ষেতে পানি দিতে পারছি না, পাটও বুনতে পারছি না। ফিলিং স্টেশন বা দোকান কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না।
“বর্তমানে এক লিটার ডিজেল ১৫০ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, এটি নিয়ন্ত্রণ করে ডিজেল সহজলভ্য করতে হবে। তা না হলে ধানের উৎপাদন কমলে খাদ্য উৎপাদনও কমে যাবে।”
চাষিরা বলেন, নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত গোপালগঞ্জে বছরে মাত্রে একবার বোরো ধান ফলে। তাই বোরো হল এ জেলার কৃষকের প্রধান ফসল। এ ধানের চালেই তাদের সারা বছরের সংসারের খোরাকির ব্যবস্থা হয়। এছাড়া বাড়তি ধান বিক্রি করে তারা পরিবারের অন্যান্য খরচ মিটিয়ে থাকেন। তাই ফলনে প্রভাব পড়লে সারা বছরই তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হবে।
গোপালগঞ্জের শরীফ নূরজাহান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বাচ্চু শেখ বলেন, “কৃষকরা এখন ধানে সেচ দিচ্ছে, তাই তাদের ডিজেল সরবরাহকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকলেও একবারে ৫ লিটারের বেশি ডিজেল দিতে পারছি না।
“তবে কৃষকদের বলেছি ৫ লিটার শেষ হলে আসলে আবার দিতে পারব, যদি আমাদের কাছে ডিজেল থাকে।”

তবে জেলায় পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ আছে জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, “সেচ নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেউ তেল না পেলে বা অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হলে দ্রুত আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষককে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা কৃষকদের পাশে সব সময় আছি।”
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “গোপালগঞ্জের মাটিতে জৈব পদার্থ বেশি রয়েছে। এ পদার্থের পানি ধারণ ক্ষমতা বেশি। সামনে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই সেচের চাপ কমে যাবে। এটি এ সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে।”
বিশেষ করে পাট বপন মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। তখন সেচের তেমন প্রয়োজন হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে, যোগ করেন তিনি।