Published : 29 Jun 2025, 06:10 PM
কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুদ্ধিজীবী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশান’, ‘লেগেছেরে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘ইউনুস সরকার সফলতা, ধর্ষকের পৃষ্ঠপোষকতা’, ‘বাহ ইউনুস চমৎকার, ধর্ষকের পাহারাদার’, সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ বলেন, “কুমিল্লার ঘটনায় ধর্ষিতাকে ন্যায়বিচার না দিয়ে ধর্ষিতার উপর নির্যাতন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানাই। পাশাপাশি জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাই।
“বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের যে ন্যূনতম আশা তা পূরণে ব্যর্থ। বিগত ফ্যাসিস্ট আলমের মতই এখনো বিচারহীনতার রাজনীতি এদেশে কায়েম হচ্ছে। আমরা এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।”

বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সংগঠক তারেক আশরাফ বলেন, “আমরা যখন ধর্ষণের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করি তখন দেখা যায়, সমাজের শ্রেণিগতভাবে দুর্বল নারীরা বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনা ভিডিও যদি ভাইরাল না হত ধর্ষক বিচারের আওতায় আসত না। সমাজে ধর্ষক তৈরি হয় রাজনৈতিক ক্ষমতার ছায়াতলে। এদেশের যে ক্ষমতা কাঠামো সে ক্ষমতা কাঠামোই ধর্ষক তৈরিতে উদ্ভুদ্ধ করে। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যে চেতনাগত পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিলো তার কিছুই হয়নি।”
বিক্ষোভ মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র গণমঞ্চের যুগ্ম সদস্যসচিব সজল কুমার, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শামীন ত্রিপুরা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ফুয়াদ রাতুলসহ বাম নেতাকর্মীরা।
রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগরে একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি আটক ও পিটুনির শিকার হয়। পরে ফজর সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ‘আইনানুগ ব্যবস্থা’ গ্রহণ করে।
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ফজর আলীকে আসামি করে শুক্রবার মামলা করেছেন এক হিন্দু নারী। বাদীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।
শনিবার ভোরে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভেতরে থাকবে-
মুরাদনগরের আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি ফজরসহ গ্রেপ্তার ৫
মুরাদনগরে হিন্দু নারীকে ‘ধর্ষণের’ প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ
মুরাদনগরে ধর্ষণের অভিযোগে হিন্দু নারীর মামলা