‘বিচারহীনতার কারণে আজ নারী কোথাও নিরাপদ নন’
কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের বিচার দাবিতে সাতক্ষীরায় গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ছড়ানোয় জড়িতদের বিচার দাবিতে সাতক্ষীরায় গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরা শহরের পিএন স্কুল মাঠ সংলগ্ন সড়কে গণপ্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সারাদেশে সংগঠিত নারী নির্যাতন, হত্যারও বিচার দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে স্বদেশ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “বিচারহীনতার কারণে নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নন। বিগত পাঁচ মাসে নয় হাজার ১০০টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছে ৬৫ হাজারের অধিক মামলা। যা নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়ঙ্কর চিত্র মনে করিয়ে দেয়।”
সম্প্রতি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণসহ দেশে ঘটে যাওয়া নারী ও ‘সংখ্যালঘু’ নির্যাতন, জমি দখল ও হত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
কর্মসূচিতে স্বদেশ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এইচ আর ডি এফ, সিডো, হেড সংস্থা, ক্রিসেন্ট, এমএসএফ, এইচআরডিএন-সাতক্ষীরা, বারসিক, সুশীলন, উত্তরণ, সুন্দরবন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সৃজনী মহিলা লোককেন্দ্র, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, প্রথম আলো বন্ধুসভা, রূপান্তর, মিশন মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
মাধব চন্দ্র দত্তর সভাপতিত্বে এবং সিডো সংস্থার পরিচালক শ্যামল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, লুইস রানা গাইন, নাজমা খাতুন, কলেজ ছাত্রী ময়না, মহিলা পরিষদের রুপা বসু, আঞ্জুয়ারা মিলি, যুব প্রতিনিধি হৃদয় মণ্ডল, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলী নুর খান বাবুল, মহাদেব দাশ, শ্যামল সরকার, আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, আফজাল হোসেন, কুমকুম, নিত্যানন্দ সরকার, মফিজুর রহমান।
রোববার কুমিল্লা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগরের একটি গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফজর আলী নামে এক ব্যক্তি আটক ও পিটুনির শিকার হয়। পরে ফজর সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে কিছু ব্যক্তি ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ‘আইনানুগ ব্যবস্থা’ গ্রহণ করে।
মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ফজর আলীকে আসামি করে শুক্রবার মামলা করেছেন এক হিন্দু নারী। বাদীর মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মধ্যে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে শনিবার ভোরে ফজর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের আলাদা মামলায় তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
