১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাজা শেষেও শরীয়তপুরের জেলে ১৭ ভারতীয়, তিনজনের সৎকারে ব্যয় ২৯ লাখ

সাজা শেষ হলেও পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া না হওয়ায় তারা বর্তমানে রিলিজ প্রিজনার (আরপি) হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jun 2026, 08:57 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:21 PM

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে সাজা শেষ হওয়া ১৭ জন ভারতীয় নাগরিক এখনও বন্দি রয়েছেন।

পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া এবং ভারতীয় দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগের পরও সাড়া না পাওয়ায় তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কারাগারের জেলার পাপিয়া সুলতানা ।

তার ভাষ্য, ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ২০ জনকে আটক করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ও জাজিরা থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

আদালতের দেওয়া সাজা শেষ হলেও পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া না হওয়ায় তারা বর্তমানে রিলিজ প্রিজনার (আরপি) হিসেবে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

বন্দিদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এবং রাজন নামে আরও একজন ২০২৫ সালের ২৯ মে কারাগারে মারা যান।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত তিনজনের লাশ দীর্ঘ সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুজনের এবং ডিসেম্বর মাসে একজনের লাশ স্থানীয়ভাবে সৎকার করা হয়। 

লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারে মোট ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

বর্তমানে কারাগারে ১৪ জন পুরুষ ও তিনজন নারী ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। ভাষাগত সমস্যার কারণে তাদের অনেকেই স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু বন্দি ঠিকমত খাবার খাচ্ছেন না। এতে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার চিঠি লিখেও তেমন কোনো সুরাহা পাচ্ছে না শরীয়তপুর জেলা কারা কর্তৃপক্ষ।

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ বলেন, “বর্তমানে যারা এখানে বন্দি আছেন, তারা ঠিকমত খাবার গ্রহণ ও কাপড় পরছেন না। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, “পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এতে বন্দিরা তাদের স্বজনদের কাছে এবং নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবেন।”

চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, “বিদেশি বন্দি মৃত্যুর পর লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারের জন্য সরকারের লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়। তাই তাদের নিজ দেশে পাঠানো জরুরি।”

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানেন না। তারা কী পরিস্থিতিতে রয়েছেন তা ফাইল দেখে বলতে হবে।