Published : 07 Apr 2026, 10:49 AM
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট যেন সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। কুমিল্লায়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে হচ্ছে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের।
জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দুপুরে লাইনে দাঁড়িয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে তবেই মিলছে জ্বালানি। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ক্লান্ত হলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি নিতে পেরে স্বস্তির হাসি নিয়ে ফিরছেন গ্রাহকরা।
প্রতিদিনই কুমিল্লা শহরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এখন বিকালের পর থেকে মোটরসাইকেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের সারি। তবে এই দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভও বাড়ছে।
সোমবার রাতে নগরীর টেলিকোনা এলাকায় ‘নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনের’ সামনে জ্বালানি নিতে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা যায়। প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর মোটরসাইকেলে মিলছে মাত্র চার লিটার অকটেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এনজিও কর্মী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি তেলের জন্য। তেল ছাড়া সকালে বাইক চলবে না। আর বাইক ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়াও সম্ভব নয়। নিরুপায় হয়ে এভাবে অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।”
একই ভোগান্তির কথা জানিয়ে নগরীর রানিরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আরজু বলেন, “চার ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মাত্র চার লিটার অকটেন পেয়েছি। ব্যবসা রেখে দাঁড়িয়ে থেকে আমার সময় নষ্ট হয়েছে। এই ভোগান্তি আর সহ্য করতে চাই না।”
এদিকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা, কখনো লাইন ভাঙা নিয়ে উত্তেজনা ও হাতাহাতি এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হচ্ছে বারবার।

একজন যাতে একাধিকবার জ্বালানি নিতে না পারেন, সেজন্য বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করছেন তারা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে পাম্পে ভিড় করছেন।
নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রতিদিন বিকালে পর থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের সারিবদ্ধ লাইন ব্যবস্থাপনা করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশসহ ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে।”
কুমিল্লার সব ফিলিং স্টেশন যদি একই সাথে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু করে তাহলে এক স্টেশনে এত লম্বা লাইন আর ভিড় তৈরি হবে না বলে মনে করেন তিনি।