Published : 19 Oct 2025, 05:22 PM
মেঘনা নদী থেকে ৬ হাজার ৩৪০ বস্তা সারসহ ‘লুট হওয়া’ একটি বাল্কহেড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার বিকালে সারগুলো উদ্ধার করা হয় বলে রোববার ঢাকার নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন “ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার নোয়াগাঁও বাজার সংলগ্ন তিতাস নদীর শাখা দেওজুড়ী খাল থেকে সার বহনকারী বাল্কহেড, স্থানীয় বাজারের একটি গোডাউন এবং তিতাস নদী তীরবর্তী গ্রামের এক বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত সার উদ্ধার করে।”
এর আগে গত ১০ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটে। দুদিন পর বিএডিসির আমদামিকৃত সারের পরিবহন এজেন্ট ‘গ্রামসিকো লিমিটেডের’ অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সামছুদ্দোহা সরদার নরসিংদীর রায়পুরা থানায় সার লটের মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- বাল্কহেডের তিন কর্মী নরসিংদীর আলমগীর (৩৬), কিশোরগঞ্জের জসিম উদ্দিন (৩৭) ও বাগেরহাটের মো. আব্দুর রহিম খান।
পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ৮ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর থেকে ‘এম বি হাসান’ নামের বাল্কহেডটি ৯১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৩৪০ বস্তা আমদানি করা সার নিয়ে সুনামগঞ্জের বিএডিসির গোডাউনের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথে সেটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার মানিকনগর ঘাটে নোঙর করে এবং ইঞ্জিনের ত্রুটির কথা বলে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত একই ঘাটে অবস্থান করে।

“পরদিন বাল্কহেডটি আবার গন্তব্যে চলা শুরু করে। ঘণ্টাখানেক চলার পরে মেঘনা নদীতে বাল্কহেডের গতি কমিয়ে দেওয়া হয় এবং একটা ট্রলার বাল্কহেডের সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধা হয়। এ সময় ট্রলার থেকে দুইজন বাল্কহেডে ওঠেন। তারা সারের ডিলারের এজেন্টকে হাত-মুখ বেঁধে ভয় দেখিয়ে ট্রলারে ওঠায়। তখন ট্রলার থেকে ওঠা দুজন এবং বাল্কহেডের দুজনও ট্রলারে নেমে যায়। আরেকজন সার বহনকারী বাল্কহেডটি নিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, “ওইদিকে সারের ডিলারের প্রতিনিধিকে নিয়ে ট্রলারটা মেঘনা নদীতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে। পরে ১০ অক্টোবর বিকালেই নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার আব্দুল্লাহর চর নামক স্থানে তাকে মারধর করে নামিয়ে দেয়। এরপর থেকে বাল্কহেডের কোন স্টাফের সঙ্গে সারের ডিলার এবং তাদের অফিসের কেউ কোন যোগাযোগ করতে পারেননি।”
পরে অভিযোগ পেয়ে নৌ-পুলিশের একাধিক টিম প্রযুক্তির সহায়তা সারগুলো উদ্ধার করে। পরে মামলা হলে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে বলে নৌ-পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান।
নৌ-পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার আলমগীরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজির সাতটি, জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি ও রহিমের বিরুদ্ধে মারামারি এবং নারী ও শিশু আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় অন্যান্য আইনী পদক্ষেপ গ্রহণসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।