Published : 30 Sep 2025, 10:20 PM
খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরী ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ ওঠার জেরে চার দিন থেকে সেখানে যে অবরোধ চলছিল তা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে জুম্ম ছাত্র-জনতা।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় তাদের ফেইসবুক পেইজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের তরফে আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান অবরোধ কর্মসূচি ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলপড়ুয়া জুম্ম কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করি।
“এরই মধ্যে সোমবার খাগড়াছড়ির ডিসির উদ্যোগে ডাকা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় আমাদের ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দল প্রশাসনের কাছে ৮ দফা দাবি পেশ করে, যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসন জানিয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে ১৪৪ ধারাও তুলে নেওয়া হবে।”
জুম্ম ছাত্র-জনতা বলেছে, “গুইমারায় সংঘটিত ঘটনার তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও আমরা অবহিত হয়েছি।”
জুম্ম ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন দুপুরে গুইমারায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ির ডিসি এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, এসপি আরেফিন জুয়েল, গুইমারার ইউএনও আইরিন আক্তার ও গুইমারা থানার ওসি মো. এনামুল হক চৌধুরী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “প্রশাসনের আশ্বাস ও উদ্যোগের প্রতি আস্থা রেখে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসবকে সম্মান জানিয়ে আমরা ঘোষণা করছি যে, ৫ অক্টোবর অথবা পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত করা হল।”
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায় মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল পার্বত্য এই জেলায়।
পরদিন বুধবার এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ শয়ন শীল নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।
এরপর শনিবার ভোর ৫টায় ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এমন উত্তেজনার মধ্যে গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়, সেখানে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।