২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নরসিংদীতে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ: ৬ দিন পর গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু

ঈসমাইল হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন, শনিবার রাতেই নরসিংদীর পলাশে ঈসমাইলের মরদেহ দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদীতে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ: ৬ দিন পর গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল কর্মীর মৃত্যু
ঈসমাইল হোসেন।

বিডিনিউজ২৪

নরসিংদী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2025, 05:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:14 PM

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ছাত্রদল কর্মী চিকিৎসাধীন থাকার ছয় দিন পর মারা গেছেন।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন নিহত ঈসমাইল হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া।

পলাশ থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, “আহত ঈসমাইল হোসেন মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এখনও জানায়নি।”

নিহত ২৬ বছরের ঈসমাইল পলাশ থানার ঘোড়াশাল পৌরসভার খানেপুর মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। 

তার বাবা আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন, “শনিবার দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার ছেলে ঈসমাইল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।”

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর শনিবার রাতেই নরসিংদীর পলাশে ঈসমাইলের মরদেহ দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ছেলে হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের দাবিও করেন সন্তান হারানো এই বাবা।  

পলাশ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর পাপন বলেন, “ঈসমাইল হোসেন আমাদের কর্মী ছিলেন। বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েল ও তার লোকজনের গুলিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। 

“আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই এবং পাশাপাশি ঈসমাইল হত্যায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

এর আগে গত ১৫ জুন সন্ধ্যার দিকে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএডিসির মোড়ে পলাশ উপজেলা ছাত্রদল ও জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল কবির জুয়েলের শোডাউনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ  সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

সংঘর্ষে ঈসমাইলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে আহত ঈসমাইলকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সেদিন রাতেই ঘোড়াশাল পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিয়াম মিয়া বাদী হয়ে ফজলুর কবির জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে পলাশ থানায় মামলা করেন। 

পরে, জুয়েলের পক্ষ থেকে তার শ্বাশুড়ি মমতাজ বেগম বাদী হয়ে এক বিএনপিকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বিএনপি নেতা জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুরানো খবর

নরসিংদীতে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ভিডিও ভাইরাল

নরসিংদীতে সংঘর্ষ: ‘ঈর্ষান্বিত হয়ে’ বিএনপি নেতাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

নরসিংদীতে বিএনপির দুপক্ষের মিছিলে সংঘর্ষগুলিবিদ্ধসহ আহত ৩