২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাবিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহাল: শিক্ষার্থীদের নিন্দা ও প্রতিবাদ

“প্রশাসন যে মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিয়েছে তাতে আমরা শিক্ষার্থীরা মর্মাহত।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Sep 2025, 05:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তিতে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।

প্রশাসনের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে এই কর্মসূচি পালন করে তারা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও তাদের সঙ্গে অংশ নেয়।

মিছিল থেকে ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, পোষ্য কোটার কবর দে’, ‘কোটা না মেধা মেধা, মেধা মেধা’, ২৪ এর হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার ইত্যাদি স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রাকসুর ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “জুলাই বিপ্লব যেই বিষয়কে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয়েছিল, সেটা ছিল অযৌক্তিক পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে।

“জুলাই বিপ্লবের ছয় মাস পরে আমরা পোষ্য কোটা বাতিল করেছিলাম। কিন্তু প্রশাসন আবার এই পোষ্য কোটা রাবিতে ফিরিয়ে এনেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এর সঙ্গে পোষ্য কোটা বাতিল চাই।”

স্বতন্ত্র সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী সজিবুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নিয়ে যে আমেজ তৈরি হয়েছিল সেটাকে বানচাল করার জন্য প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

“প্রশাসন যে মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিয়েছে তাতে আমরা শিক্ষার্থীরা মর্মাহত। আজকে কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বলে দিতে চাই, পোষ্য কোটা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনভাবেই ব্যাক করবে না।”

গত ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ পোষ্য কোটা পুনর্বহাল না করা হলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির হুশিয়ারি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে ভর্তি কমিটির সভায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সন্তানদের শর্তসাপেক্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।

এর আগে ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য স্থায়ীভাবে পোষ্যকোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর ১৩ অগাস্ট থেকে পোষ্য কোটা পুনর্বহালসহ ৮ দফা দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন।

এরই অংশ হিসেবে ২৪ থেকে ২৬ অগাস্ট পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

পরে ২৪ অগাস্ট প্রশাসনের আশ্বাসে তিন দিনের অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছিলেন পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।