Published : 30 Jul 2025, 11:18 AM
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ৯৩ বছর বয়সী নারীকে মৃত দেখিয়ে তার বয়স্ক ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোহিনুর আক্তার।
তারা বানু হরিরামপুরে গালা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিনোদগালা গ্রামের মৃত হাকিমদ্দিন মোল্লার স্ত্রী।
নিজেই জীবিত থাকার কথা জানিয়ে তারা বানু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি বাঁইচা আছি, মৃত কেমনে? আমার নাম কাইটা দিছে, এখন কিছুই পাই না।”
তার ছেলে হাসমত মোল্লা বলেন, “আমার মা দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে তাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা অন্য একজনকে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
এ ঘটনায় তিনি গত ১৪ জুলাই ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হাবিবুর রহমান হারেজের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হরিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আঈয়ুব আলী বলেন, “চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বারের প্রত্যয়নেই তারামন বিবিকে মৃত হিসেবে ভাতা প্রাপ্তির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে ইউপি সদস্য দেওয়ান হাবিবুর রহমান হারেজ বলেন, “আমার একটু ভুল হয়েছে। আমি মৃত সনদ দেইনি। ইউপি থেকে ভুলে মৃতের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে।”
আর আরেকজনকে ভাতা কার্ড দিলেও কোনো বাড়তি সুবিধা নেননি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাসের মোবাইলে কল দিলে আরেকজন ফোন ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।