১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সাংবাদিককে ‘মারধর করে’ পুলিশে হস্তান্তর, ইয়াবা উদ্ধারের দাবি

“সে কোনদিন ধূমপান করে নাই, তাহলে ইয়াবা তার কাছে কিভাবে আসবে?।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 04:07 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক সাংবাদিককে ‘মারধর করে রশি দিয়ে বেঁধে’ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয়রা। 

পরে তার কাছ থেকে ১৯টি ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে মাদক আইনে মামলা দিয়ে বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তোফাজ্জল হোসেন নামের (৩২) ওই সাংবাদিক ‘দৈনিক ডেসটিনি’ পত্রিকার গৌরীপুর প্রতিনিধি।

গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গৌরীপুর উপজেলার ভৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় আশরাফুল আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মামলার পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

বুধবার দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে তোফাজ্জল ও আশরাফুলের নামে মাদক আইনে মামলা দায়ের করে। তবে স্থানীয় সাংবাদিক ও তোফাজ্জলের পরিবারের দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এজাহারে বলা হয়েছে, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ খবর পায় যে ভৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসায়ী আশরাফুল আলমের বাড়িতে স্থানীয়রা একজনকে মাদকসহ আটক করে রেখেছেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফাজ্জল হোসেনকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের দাবি, তোফাজ্জলকে হেফাজতে নেওয়ার সময় আশরাফুল আলম কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের সামনে তোফাজ্জলের আকাশি রঙের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দুটি গোলাপি রঙের ইয়াবা ছিল।

উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ হাজার ৫০০ টাকা। 

এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে এজাহারে বলা হয়েছে। 

এজাহারে বলা হয়েছে, পলাতক আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটক তোফাজ্জলকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের আটকের সময় উত্তেজিত জনতার মারধরে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে লেগেছে। 

ঘটনার প্রসঙ্গে গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা বলছেন, “সাংবাদিক তোফাজ্জল ষড়যন্ত্রের শিকার। সে কোনদিন ধূমপান করে নাই, তাহলে ইয়াবা তার কাছে কিভাবে আসবে?।”

তার ভাষ্য, “প্রথমে ওসি আমাদের কাছে বলেছিলেন, তোফাজ্জলের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায় নি। পরে আবার তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।” 

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, “তোফাজ্জলকে যে বাড়ি থেকে জনগণ আটক করেছে, সেই বাড়ির মালিক আশরাফুল একাধিক মাদক মামলার আসামি। জনগণ মাদক পেয়েছে তাই তার নামে মাদক মামলা হয়েছে।” 

পলাতক আসামি আশরাফুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান।